২০ জুলাই, ২০২৪, শনিবার

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

Advertisement

নদ-নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাছাড়াও অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নতুন করে প্লাবিত হতে শুরু করেছে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকাসহ বিভিন্ন এলাকা।

তবে নদী অববাহিকার নিচু এলাকাসহ চরাঞ্চলের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক শ হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেতসহ সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে নিচু এলাকার।

আবার পানি বাড়ার সাথে সাথে ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারসহ অন্যান্য নদীর ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। আজ শনিবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের উজানে ভারতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোতে আরও দুই থেকে তিন দিন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বলদি পাড়া গ্রামের সাহেব আলী নামের এক ব্যক্তি বলেন, দুদিন ধরে পানিবৃদ্ধির কারণে বাড়ির চারপাশেই পানি যার ফলে বাড়ি থেকে বাহির হতে পারছি না। নৌকা ছাড়া যাতায়াতের উপায় নাই। আমার নৌকা নাই। এমতাবস্থায় বড় বিপদে পড়েছি। পানি যেভাবে বাড়ছে, মনে হয় আজকের মধ্যেই ঘরে প্রবেশ করবে পানি। এখন বুঝতে পারছি না বউ-বাচ্চাকে নিয়ে কোথায় যাব, কী খাব।

এ নিয়ে যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মঈনুদ্দিন ভোলা বলেন, এখন পর্যন্ত আমার ওয়ার্ডে এক হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আর যদি এটা অব্যাহত থাকে তাহলে আরও অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে। এমনকি গ্রামীণ রাস্তাগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিছিন্ন হয়ে গেছে।

এ নিয়ে যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার বলেন, আমার ইউনিয়নে চর ও দ্বীপ চর এলাকায় প্রায় ৭০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবৃদ্ধির কারণে। মানুষ নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় করে যাতায়াত করছে। ইউএনও স্যারের সঙ্গে আমি গতকাল কথা বলেছি। সম্ভবত আজ পানিবন্দি মানুষজনকে শুকনো খাবার দেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement