২৪ জুলাই, ২০২৪, বুধবার

দিনে দিনে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ

Advertisement

এখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিতরণ করা মোট ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৯৮ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। শতকরা হিসেব করলে মোট খেলাপি ঋণ ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

করোনার কারণে কিস্তি জমা না দিলেও খেলাপির তালিকায় যাবে না- এমন সুবিধা দেয়ার পরেও বেড়ে গেচে খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শেষ প্রতিবেদন বলা হচ্ছে গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়েছে মোট ৩ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। গেলো জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্তও যা বেড়েছিল ৬ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। এমন হিসেবে চলতি বছরের ছয় মাসে খেলাপি ঋণের পিরমান বাড়লো ১০ হাজার ৭০১ কোটি টাকা।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ নির্নয় করা হয়েছিলো ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। ওই সময় দেশের ব্যাংক খাতে ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ ছিলো খেলাপি ঋণের হার । এই খেলাপির মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের অংশ কত,? সে হিসেব এখনও পাওয়া যায়নি। তবে মার্চে মাসের হিসাবে দেখা যায়, বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ কয়েক গুণ বেশি।

ওই হিসাবে পুঁজিবাজারের ৩১টি ব্যাংকে গড় খেলাপির হার ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর পুঁজিবাজারে নেই, এমন সরকারি ব্যাংকে খেলাপির হার ১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। গত বছরের জুনের তুলনায় শতকরা হারে কম খেলাপি গত ৬ মাসে বাড়লেও খেলাপি ঋণ ও শতকরা হার বাড়লেও ২০২০ সালের জুনের তুলনায় শতকরা হারে খেলাপি কমেছে। সে সময় বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

অবশ্য বিতরণ করা ঋণ কম ছিল বলে এখনকার চেয়ে টাকার অঙ্কে খেলাপি কম ছিল। সে সময় মোট খেলাপি ছিল ৯৬ হাজার ১১৭ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণের সমস্যা সমাধানে ২০১৯ সালে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ৫২ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত করা হয়। যে কারণে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ আগে কমে যায়।

তবে ২০২০ সালের মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাবে তৈরি হয় নতুন পরিস্থিতি। ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দাভাব, নতুন বিনিয়োগে অনাগ্রহের কারণে ব্যাংকের কিস্তি দেয়া অনিশ্চিত হয়ে যায়। আর বাস্তবতা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও দেয় বিশেষ ‍সুবিধা। ঋণের কিস্তি জমা না দিলেও খেলাপির তালিকায় নাম উঠবে না, এমন সুবিধায় ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সাল শেষে খেলাপি ঋণ কমে ছয় হাজার কোটি টাকার মতো।

তবে কিস্তি পুরোপুরি জমা না দেয়ার সুবিধা এখন নেই। কিস্তির একটি অংশ এখন জমা দিতে হচ্ছে। কিন্তু জমা না পড়ায় খেলাপির পরিমাণ আবার বাড়ছে।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement