১৮ জুলাই, ২০২৪, বৃহস্পতিবার

পাওয়ার অব অ্যাটর্নির আদ্যোপান্ত

Advertisement

ধরে নিন আপনার একটি জমি আছে ঢাকায়, কিন্তু আপনি থাকেন ইউরোপের কোন এক মুল্লুকে। সেক্ষেত্রে আপনি জমির দেখভালও করতে পারছেন না। আবার বিক্রীও করতে পারছেন না। এমন জরুরী মুহূর্তেই মূলত পাওয়ার অভ অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামার প্রসঙ্গ আসে। নিজের অনুপস্থিতিতে কাউকে বিশেষ ক্ষমতা অর্পণের নামই হলো পাওয়ার অব অ্যাটর্নি।

ভূমি ব্যবস্থাপনা,ভূমির উন্নয়ন,হস্তান্তর,বিক্রয়,বন্ধক দান, ভূমির উপর ফ্ল্যাটবাড়ী কিংবা আবাসিক বা বাণিকজ্যিক ভবন নির্মাণে বা নির্মানের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার এর সাথে চুক্তি, জমিজমা নিয়ে মামলা মোকাদ্দমা পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আপনার অনুপস্থিতির কারণে যে কোন জটিলতার উদ্রেক ঘটাতে পারে। তাই প্রক্রিয়াগত বিষয়াদি সহজতর করবার জন্য যে কাউকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেয়া যায়।

প্রক্রিয়ার আলাপ
যেহেতু পাওয়ার অব অ্যাটর্নি একটি আইনগত দলিল তাই এটি লিখিত আকারে হতে হয়। যাকে ক্ষমতা দেওয়া হয় তাকে মোক্তার বলা হয়। মূল মালিকের পক্ষে এই মোক্তার সম্পত্তি বেচাকেনা, হস্তান্তর, দেখভাল, বন্ধক রাখা, খাজনা প্রদান অথবা মামলা মোকদ্দমা। সবকিছুই করতে পারবেন নিয়োজিত মোক্তার।

আমমোক্তারনামা দুই প্রকার। একটি হলো সাধারণ আমমোক্তারনামা আরেকটি হলো খাস বা বিশেষ আমমোক্তারনামা। সাধারণ আমমোক্তারনামাতে নিয়োজিত ব্যক্তিকে ব্যাপক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। অন্যদিকে বিশেষ আমমোক্তারনামা করা হয় নির্দিষ্ট কোন কাজ করার জন্য। জমিজমা হস্তান্তরের সাথে সংযোগ নেই। এমন আমমোক্তারনামার ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক করলেই হয়। তবে জমি বিক্রী বা হস্তান্তর সংক্রান্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে সেটা অবশ্যই রেজিস্ট্রি করাতে হবে। দলিল সম্পন্ন হবার তিনমাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন না করলে এর আইনগত ভিত্তি থাকে না। আবার আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মামলা মোকদ্দমা পরিচালনার ক্ষেত্রেও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়োগ দেয়া যায়। সেক্ষেত্রে দলিলের ধরণ বুঝে সে অনুযায়ী নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পন্ন করতে হবে।

প্রবাসীদের ক্ষেত্রে
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় প্রবাসীদের। তবে এক্ষেত্রে এমন কাউকে দিয়ে কাজ করাতে হবে যিনি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ২০১২ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন। আর পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করতে হবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে। দলিলটি দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানো হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সহকারী সচিব সেটা সত্যায়ন করবেন। পরে সেটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মূল্যের স্ট্যাম্প লাগাতে হয়। এবং এরপরই ওই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের একটি নাম্বার পড়ে।

ক্ষমতা বাতিলের কার্যক্রম
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের ক্ষেত্রে যে জালায় রেজিস্ট্রি হয়েছিলো সেই জেলার রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করতে হবে। আর যেসব পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নোটারির মাধ্যমে করা হয়েছিলো। সেগুলো নোটারির মাধ্যমেই বাতিল ঘোষণা করতে হবে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দাতা প্রয়োজনে ৩০ দিনের নোটিশ দিয়ে প্রদত্ত ক্ষমতার অবসান ঘটাতে পারবেন। আবার গ্রহীতাও ৩০ দিনের নোটিশ দিয়ে ক্ষমতা ত্যাগ করতে পারবেন। আবার বিশেষ মোক্তারনামার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন হবার পর তা বাতিল হবে। আবার পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকলে। মেয়াদ শেষেও তা বাতিল হবে।

শেষকথা
পাওয়ার অব অ্যাটর্নির দলিল প্রস্তুতকালে খেয়াল রাখতে হবে দাতা-গ্রহীতার ছবি যেন সেখানে দেয়া থাকে। পাশাপাশি বিশ্বস্ত কাউকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেয়া উচিত। পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে স্পষ্টভাবে শর্ত উল্লেখ করে দেয়া ভালো। যেখানে বলা থাকবে নিয়োজিত ব্যক্তিকে কি ক্ষমতা দেয়া হলো এবং তিনি কি কি করতে পারবেন। অনেকসময় দেখা যায় অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রতারণামূলকভাবে জমি বিক্রী বা হস্তান্তর করে দেন মোক্তার। সেক্ষেত্রে মূল মালিক বিপদগ্রস্ত হন।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement