১৮ জুলাই, ২০২৪, বৃহস্পতিবার

বাংলাদেশের অটো চয়েজ এখন পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্রিকেটার

Advertisement

হতে পারতেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অটোমেটিক চয়েস, যেমন ছিলেন বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটে, সাকিব মুশফিকের মত জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তুলে মাতাতে পারতেন বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চ, কিন্তু সামর্থ্য থাকা সত্যেও কেন যেন হারিয়ে গেলেন, তবে তাকে অবশ্য খোঁজার চেস্টাও করেনি কেউ। সেই সিরাজুল্লাহ খাদেম নিপু আবারও ফিরেছেন জাতীয় দলে, কিন্তু লাল সবুজের পতাকা নিয়ে নয়, সে এখন ক্রিকেট খেলেন পর্তুগালের পতাকার জন্য।

২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সাকিব, তামিম ও মুশফিকের সাথে নিপুও বনে গিয়েছিলেন জুনিয়র স্টার। সাকিব-তামিম-মুশফিক জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও তার ভাগ্যে হয়নি সিনিয়র টাইগারদের প্রতিনিধি হওয়ার। বাঁহাতি মিডিয়াম পেসের সাথে মিডেল অর্ডার ব্যটিংয়ে- মুগ্ধ করেছিলেন ১৯ বিশ্বকাপে। এর পরেই বিসিবির সাথে চুক্তি হয় হবিগঞ্জে বেড়ে ওঠা এই ক্রিকটারের, কিন্তু ইনজুরির কারণে ক্রিকেট থেকে সরে যেতে বাধ্য হন তিনি।
তবে নিপুর ইনজুরির পরে বিসিবি তার দিকে সেভাবে আর নজর দেয়নি, করেনি চিকিৎসার সু-ব্যবস্থাও। এর পরে জীবনের তাগিদে নিপু চলে যান পর্তুগালে। সেখানে কাজের ফাঁকে শুরু করেন ক্রিকেট খেলা, যার শেষ পরিণতি পর্তুগালের পক্ষে জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলার সুযোগ পাওয়া।

১৯ আগস্ট পর্তুগালের হয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাল্টার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় খাদেম নিপুর। নিপুরা ম্যাচ জেতে ৬ উইকেটে। বল হাতে নিজে শিকার করেন দুটি।

একসময় নিপু দেশের সেরা অলরাউন্ডারদের মধ্যে একজন ছিলেন। সে সময় অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন প্রিমিয়ার লিগে ডামরিন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছিলেন। এক ম্যাচে পালমারস্টন ক্রিকেট ক্লাবের বিরুদ্ধে করেছিলেন ৮৮ রান এবং বল হাতে শিকার করেছিলেন ৬ উইকেট।

বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দলের তখনকার কোচ শন উইলিয়ামস সে সময় বলেছিলেন, নিপু হবে বাংলাদেশের জাতীয় দলের পরবর্তী তারকা অলরাউন্ডার। ২০০৭ সালে উইলিয়ামসই নিপুকে পাঠিয়েছিলেন ডারউইন ক্লাবের হয়ে খেলতে। ঢাকা মোহামেডানে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছিলেন সিলেট বিভাগের হয়ে। বিকেএসপিতে ভর্তির পরে সাকিবের সাথে নিপুও ছিলেন প্রতিটি বয়সভিত্তিক দলের অটো চয়েস।

২০০৯ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের আগে লিগের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে গিয়ে চোখে আঘাত পান তিনি। তারপর আর নিপুর খবর রাখেনি কেউই। শেষ পর্যন্ত তিনি চলে যান পর্তুগালে, কাজের ফাকে ক্রিকেট খেলে গায়ে তোলেন সে দেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement