২৪ জুলাই, ২০২৪, বুধবার

শতবর্ষ পেরিয়ে শক্তি ঔষধালয়

Advertisement

শক্তি ঔষধালয়। রাজধানী স্বামীবাগে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদ-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম আয়ুর্বেদ গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে শক্তি ঔষধালয় প্রতিষ্ঠিতা পায়। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মথুরামোহন চক্রবর্তী ‘মথুর বাবু’ নামে পরিচিত ছিলেন। শুরুর গল্পটা এভাবেই জানালেন প্রতিষ্ঠানের বর্তমান মহাব্যবস্থাপক এবিএম গোলাম মোস্তফা

কেটিভি: শক্তি ঔষধালয় প্রতিষ্ঠিতা সম্পর্কে বলুন

মোস্তফা: উনিশ শতকের শেষ দিক। ঢাকার জুবিলী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মথুরা মোহন চক্রবর্তী হঠাৎ কঠিন অসুখে পড়েন। নানান জায়গা ঘুরে শেষমেশ নারায়ণগঞ্জের বারদীতে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর শরণাপন্ন হন। ব্রহ্মচারীর চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। লোকনাথ বাবা মথুর বাবুকে বলেন, বনে-জঙ্গলে যাও। গাছগাছড়া দিয়ে মানুষের সেবা করো। পরে লোকনাথ বাবার নির্দেশে মথুরা মোহন নিজেই আয়ুর্বেদ চর্চা শুরু এবং শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে প্রথম বাংলাবাজারে ঔষধ বিক্রি শুরু করেন। এভাবে ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিা পায় আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠান শক্তি ঔষধালয়।

কেটিভি: প্রতিষ্ঠিতার পরের কথা বলুন

মোস্তফা: শুরুতে শক্তি ঔষধালয়ের প্রধান দুটি ঔষধ ছিল চ্যবনপ্রাস ও স্বর্ণসিন্দুর। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর সরকার শক্তি ঔষধালয়ের মালিকানা গ্রহণ করে। পরে ১৯৮২ সালে পুনরায় এটিকে বেসরকারি মালিকানায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঔষধ প্রস্তুতি ছাড়াও শক্তি ঔষধালয় আয়ুর্বেদ বিষয়ক ‘শক্তির গৃহ চিকিৎসা’ বই প্রকাশ করে থাকে।

কেটিভি: মালিকানা পরিবর্তনের সঙ্গে আদর্শগত কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি?

মোস্তফা: মথুর বাবুর জীবদ্দশায় বিক্রয়লব্ধ আয়ের অর্ধেক তিনি মানবকল্যাণে ব্যয় করতেন। বাকি অর্ধেক দিয়ে নিজের খরচ চালাতেন। মথুর বাবু মারা গেছেন বহুকাল আগে। একাধিকবার মালিকানা পরিবর্তন হলেও মথুর বাবুর আদর্শ ও তাঁর ওষুধ তৈরির পদ্ধতি অনুসারেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।

কেটিভি: শক্তি ঔষধালয় কোন কোন বৈশিষ্ট্যের ওষুধ তৈরি করে?

মোস্তফা: মথুর বাবুর উদ্ভাবিত প্রথম ওষুধ ছিল আমলকীর ক্বাথ দিয়ে তৈরি চ্যবনপ্রাশ। শুরু থেকেই শক্তি ঔষধালয় পাঁচ বৈশিষ্ট্যের ওষুধ তৈরি করে আসছে- তরল টনিক, বড়ি, অর্ধতরল হালুয়া, চূর্ণ আর তেলজাতীয়। আগে এই পাঁচ বৈশিষ্ট্যের ৩০৫টি ওষুধ তৈরি হতো প্রতিষ্ঠানের কারখানায়। এখন ১১৫টি ওষুধ টিকে আছে।

কেটিভি: বর্তমানে ঔষধ তৈরির প্রক্রিয়াতে কোনো পরিবর্তন এসেছে?

মোস্তফা: এখন বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে ঔষধি গাছ চেনার মতো লোকও কমে গেছে। এ রকম নানা কারণে ঔষধের সংখ্যাও কমে গেছে। ১১৫ বছরে ঔষধ তৈরির প্রক্রিয়াতেও এসেছে পরিবর্তন।

কেটিভি: কি ধরণের পরিবর্তন এসেছে?

মোস্তফা: হাতের বদলে যন্ত্রে ট্যাবলেট তৈরি হচ্ছে। রোদের বদলে আধুনিক ড্রায়ারে শুকানো হচ্ছে ওষুধের উপাদান। ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে যন্ত্রের সাহায্যে পরিশোধিত পানি। আমরা শুধু সিস্টেমকে মডার্ন করেছি। কিন্তু ওষুধের ফর্মুলায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

কেটিভি: সারাদেশে শক্তি ঔষধালয়ের ক’টি শাখা আছে?

মোস্তফা: সারাদেশে শক্তি ঔষধালয়ের ৩৫টি শাখা আছে। আর ডিলারদের মাধ্যমে প্রতিটি থানায় ঔষধ বিক্রি হয়। সর্বাধিক বিক্রীত ওষুধগুলোর মধ্যে দাঁতের মাজন ‘দন্তরোগারি’, হজমবর্ধক ‘আমলকী রসায়ন’ ও বলবর্ধক ‘দশমূলারিষ্ট’।

কেটিভি: ঔষধগুলোর দাম?

মোস্তফা: ঔষধগুলোর দাম সবার হাতের নাগালে। মথুর বাবুর লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ছিল কম দামে মানসম্মত ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া।

কেটিভি: কেটিভি প্রতিদিনের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ

মোস্তফা: আপনাকেও ধন্যবাদ। সেইসঙ্গে কেটিভি পরিবারকে অভিনন্দন

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement