১৭ জুলাই, ২০২৪, বুধবার

৬ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে মোহামেডানকে হারাল আবাহনী

Advertisement

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী ও মোহামেডানের দুই অর্ধের লড়াই হলো দুই রকম। প্রথমার্ধে গোল হলো মুড়ি-মুড়কির মতো। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখাই নেই! বরং উত্তাপ যা একটু ছড়াল শেষের ১০ মিনিট আগে আবাহনীর রেজাউল ইসলাম লাল কার্ড দেখায়। তবে ওই ধাক্কায় টলেনি মারিও লেমোসের দল। ছয় গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে জয়ের হাসি হাসল তারাই।

কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বুধবার মোহামেডানকে ৪-২ গোলে হারায় আবাহনী। লিগের প্রথম পর্বের দেখায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে সোহেল রানার একমাত্র গোলে জিতেছিল আকাশী-নীল জার্সিধারীররা।

৪১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসকে একটু চাপে রাখল আবাহনী। ১৬ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা।

শন লেন হঠাৎ করে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর মোহামেডানের হাল ধরেছিলেন শফিকুল ইসলাম মানিক। নতুন কোচের হাত ধরে শুরুটা ভালো হলো না সাদা-কালো জার্সিধারীদের। ১৬ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে তারা।

আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা প্রথমার্ধে সুযোগ বেশি তৈরি করার পাশাপাশি গোলও বেশি করে আবাহনী। পঞ্চম মিনিটে দেনিয়েল কলিনদ্রেসের শট ঝাঁপিয়ে আটকান মোহামেডান গোলরক্ষক সুজন চোধুরী। তিন মিনিট পরই কোস্টা রিকার এই ফরোয়ার্ডের কর্নার সরাসরি দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় আবাহনী।

দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আকাশী-নীলরা। নুরুল নাইম ফয়সালের পাস ধরে বক্সে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক দিয়ে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন দোরিয়েলতন গোমেজ রদ্রিগেজ।

ত্রয়োদশ মিনিটে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের শট কোনোমতে আটকান সুজন। এর ছয় মিনিট পর মোহামেডান ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ পায়। মোহাম্মদ আলমগীরের আড়াআড়ি ক্রসে সোলেমান দিয়াবাতের সাইড ভলিতে পরাস্ত হন গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল।

এ অর্ধের শেষ দিকে আরও জমে ওঠে ম্যাচ। ৪০তম মিনিটে চোট পেয়ে কিছুটা খোড়াতে খোড়াতে মাঠ ছাড়েন আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল অগাস্তো, বদলি নামেন ইমন মাহমুদ। তিন মিনিট পরই গোল পান তিনি। কলিনদ্রেসের শট সুজন ফিস্ট করার পর বক্সে পেয়ে ফিরতি শটে জাল কাঁপান মিডফিল্ডার ইমন।

প্রথমার্ধেই যোগ করা সময়ে আরও দুই গোলের দেখা মেলে। দ্বিতীয় মিনিটে অনিক হোসেনের লম্বা পাস ধরে নাইমকে কাটিয়ে জায়গা করে নিয়ে বাঁ পায়ের শটে স্কোরলাইন ৩-২ করেন শাহরিয়ার ইমন। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কলিনদ্রেসের কর্নারে দোরিয়েলতন ব্যাক হেডে ব্যবধান ফের বাড়ান।

৬০তম মিনিটে সোহেল রানার শট আটকান সুজনের বদলি গোলরক্ষক আহসান হাবিব বিপু। ৭৭তম মিনিটে মেহেদী হাসান রয়েলের শটও ফেরান মোহামেডানের এই গোলরক্ষক।

৮০তম মিনিটে আলমগীরকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার রেজাউল ইসলাম। ১০ জনের দলে পরিণত হয় আবাহনী। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে শাহেদ হোসেন জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল হয়নি। সহকারী রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মোহামেডানের খেলোয়াড়রা আবেদন জানালেও মেলেনি সাড়া।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement