২২ জুন, ২০২৪, শনিবার

অতিরিক্ত ভাড়াবৃদ্ধির আইনি সমাধান

Advertisement

ঢাকায় অবস্থানকারী অধিকাংশ মানুষের মাসকাবারি ভাড়া করা ঘরই সম্বল। বাসায় ওঠার আগে আবার একমাস বা দুইমাসের অগ্রিম অর্থও দিতে হয়। তারপর চলে বসবাস।

তবে কপালে দুঃখ থাকলে যে কোন সময়ই বাড়িওয়ালার সাথে সমস্যা হতে পারে। আবার নিত্যনৈমিত্তিক বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টিও খুব সহজভাবে নেয়ার মত নয়। আর এসব সমস্যা সমাধানেই বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১ রয়েছে।

তবে আম জনতার অনেকেই এই আইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। যারাও বা আছেন ,তারাও ঝামেলা ভেবে ব্যবস্থা নেন না। তবে আইন অনুযায়ী চাইলেই যে কোন বাড়িভাড়া বিষয়ক সমাধান হতে পারে আদালতে।

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে স্পষ্টভাবে বলা না হলেও প্রথাগত চর্চা অনুযায়ী দুইবছরের আগে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করা যায় না। তবে এই আইনের সাত ধারা অনুযায়ী ভাড়া বাড়ানো যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ানো যাবে না।

অভিযোগ  এবং প্রক্রিয়া

মাসিক ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ভাড়াটের অভিযোগ থাকতেই পারে। সেক্ষেত্রে ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ করা যেতে পারে। বর্তমানে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ভাড়া নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

প্রথমত ভাড়াটে যদি অতিরিক্ত ভাড়া না দিতে চান। তবে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মানি অর্ডার মারফত বাড়িওয়ালাকে ভাড়ার টাকা পাঠাতে হবে। তবে যদি চুক্তিপত্র থেকে থাকে। তাহলে চুক্তিপত্রে উল্লেখিত সময়ের মধ্যেও টাকা মানি অর্ডার করে পাঠানো যাবে।

দ্বিতীয়ত, যদি এমন দেখা যায় যে বাড়িওয়ালা টাকা গ্রহণ করেননি। সেক্ষেত্রে টাকাসহ মানি অর্ডার ফেরত আসবে। ফেরত আসার ১৫ দিনের মধ্যে ভাড়া নিয়ন্ত্রক অর্থাৎ সিনিয়র সহকারী জেলা জজ বরাবর আরজি পেশ করতে হবে নিজের অভিযোগ বর্ণ্না করে। আরজির সাথে ভাড়ার টাকাও জমা দিতে হবে।

প্রাথমিকভাবে যদি আদালত সন্তষ্ট হন। তবে আদালতেই ভাড়ার টাকা জমা দেয়ার আদেশ দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রতি মাসেই ভাড়ার টাকা আদালতে জমা দেয়া যাবে। এতে করে ভাড়াটের বকেয়া ভাড়া খেলাপী হিসেবে অভিযুক্ত হবার সুযোগ থাকবে না।

তবে সবচেয়ে ভালো হয় বাড়িভাড়া করবার আগে বাড়িওয়ালার সাথে লিখিত চুক্তি করে নেয়া। এতে বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

সেইসাথে প্রতি মাসে ভাড়া প্রদানে সাথে সাথে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়ার রশিদ বুঝে নিন। এতে করে আসন্ন অনেক মনোমালিন্য থেকে বেঁচে যাবেন।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement