১৮ জুন, ২০২৪, মঙ্গলবার

আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ-বাইডেনের নতুন পদক্ষেপ

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস অপরাধের ঘটনা বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোতে গুলিবর্ষণ, খুনখারাবি ও সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন সতর্ক করে বলেছেন, করোনার সংক্রমণের কারণে কয়েক মাস ধরে লকডাউন চলার পর আসছে গ্রীষ্মে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

হোয়াইট হাউসে অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড, বিভিন্ন নগরের মেয়র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এক টেলিভিশন ভাষণে বাইডেন সহিংস অপরাধের লাগাম টেনে ধরতে তাঁর নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

বাইডেন বলেন, ‘আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এ জন্য আমরা সংবিধান পরিবর্তন নয়, বরং এর প্রয়োগ করতে যাচ্ছি।’ সহিংস অপরাধ দমনে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে তাঁর নেওয়া প্রচেষ্টা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক-রিপাবলিকান সমালোচকদের এমন মন্তব্যের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

সহিংস অপরাধের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বাইডেন প্রশাসন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে খুনখারাবি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিষয়টিকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে তাঁর প্রশাসন।

ভাষণে বাইডেন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে যুক্তিযুক্ত আইন নিয়ে কাজ করার জন্য কংগ্রসের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এখন ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ও আমাদের অন্য সহকর্মীদের একত্রে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একে অপরকে নিরাপদ রাখতে, আমাদের গণতন্ত্রের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা পূরণ করতে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা প্রয়োজন।’

খবরে বলা হয়, করোনা মহামারিতে অর্থনীতি ঝাঁকুনি খাওয়ার মধ্যেই গত ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস অপরাধ বেড়েছে। বাইডেন তাঁর নতুন পরিকল্পনায় সহিংস অপরাধে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের সরবরাহ বন্ধের ওপর জোর দেন। করোনা মোকাবিলা তহবিলের অব্যবহৃত অর্থ নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগে, গুলিবর্ষণের ঘটনা শনাক্তের ব্যবস্থার মতো অপরাধ দমন প্রযুক্তিতে ও অস্ত্র চোরাচালানে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের প্রচেষ্টা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানোর কথা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে।

অপরাধ সংঘটনে যাঁরা অস্ত্রের জোগান দেন বাইডেনের কথায় সেই ‘মৃত ব্যবসায়ীদের’ বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষকে অভিযান শুরু করারও ইঙ্গিত দেন তিনি। জো বাইডেন বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঘটনাস্থল থেকে যেসব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়, তার ১০টির ৯টিরই জোগান দেয় সারা দেশের আগ্নেয়াস্ত্রের ডিলারদের মাত্র ৫ শতাংশ।

আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা কয়েক বছর ধরেই আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন। ২০১২ সালে কানেটিকাটের এলিমেন্টারি স্কুলে গুলিবর্ষণে ২৬ জন নিহত হওয়ার পরও তাঁদের প্রচেষ্টা রিপাবলিকানদের বাধায় বারবার ব্যর্থ হয়। ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতায় অনেক সময় রিপাবলিকানদের রীতিমতো একজোট হতেও দেখা গেছে।

এ-সংক্রান্ত দুটি বিল গত মার্চে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। কিন্তু সেগুলো সমান সমান আসন থাকা সিনেটে পাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিলগুলো আইনে পরিণত করার পদক্ষেপ নিতে এর পক্ষে সিনেটে ৬০টি ভোট প্রয়োজন। অর্থাৎ সব ডেমোক্র্যাট সিনেটরের সমর্থন ছাড়াও অন্তত ১০ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন দরকার হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement