১৭ জুন, ২০২৪, সোমবার

‘ইউক্রেন যুদ্ধ থামলেই বাংলাদেশ সফরে যাবো’: গ্রেগরী মিক্স

Advertisement

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান গ্রেগরী মিক্স বললেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসী তৎপরতা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধজনিত কারণে বাংলাদেশ সফরে বিলম্ব ঘটছে। এই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেই কয়েকজন সহকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ সফর করবো।’

উল্লেখ্য, ক’মাস আগে এক সমাবেশে তিনি বলেছিলেন যে, রোহিঙ্গা রিফ্যুজি ক্যাম্প এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক অবস্থা দেখতে কংগ্রেসনাল প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশ সফর করবেন।

১৭ জুন শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ‘লিটল বাংলাদেশ’ প্রাঙ্গনে প্রবাসীদের এক সমাবেশে কংগ্রেসম্যান গ্রেগরী মিক্স ২৮ জুনে ‘স্টেট এ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-২৪ এ বিভিন্ন পদে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে অবতীর্ণ ৬ বাংলাদেশীর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপনের বক্তব্য দেন।

প্রার্থীরা হলেন ডিস্ট্রিক্ট লিডার (পার্ট-বি) মাজেদা এ উদ্দিন, স্টেট কমিটিওম্যান জামিলা উদ্দিন, জুডিশিয়াল ডেলিগেট নূসরাত আলম, আহনাফ আলম, জামী কাজি, মোহাম্মদ সাবুল উদ্দিন।

উল্লেখ্য, কংগ্রেসম্যান মিক্স একইসাথে কুইন্স কাউন্টি ডেমক্র্যাটিক পার্টিরও চেয়ারম্যান। নির্বাচনে ৬ বাংলাদেশী প্রার্থী জোট গঠন করেছেন এলাকার স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান ও ডিস্ট্রিক্ট লিডার (পার্ট-এ) ডেভিড ওয়েপ্রিনের নেতৃত্বে। আরো উল্লেখ্য, এই প্রথম দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে কাউন্টি চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রকাশ্য সমর্থনদানের ঘটনা ঘটলো। এরফলে এসব প্রার্থীর বিজয়ের পথ সুগম হয়েছে বলে এ সংবাদদাতার কাছে উল্লেখ করেছেন মার্কিন রাজনীতিতে প্রবাসীদের উত্থানের পথিকৃত মোর্শেদ আলম।

কংগ্রেসম্যান মিক্স উল্লেখ করেন, কুইন্স কাউন্টি ডেমক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ থেকে এসব প্রার্থীকে অফিসিয়ালি এনডোর্স করছি। কারণ, এরাই হচ্ছেন কুইন্সের প্রতিচ্ছবি। বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোষ্ঠি আর ভাষার মানুষেরা এই কুইন্স বরোকে গড়ে তুলেছেন, বৈচিত্রমণ্ডিত করেছেন। এ ছাড়া ডিস্ট্রিক্ট লিডার হিসেবে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ডেভিড ওয়েপ্রিন। তাঁর মত অভিজ্ঞজনদের নেতৃত্বে এ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-২৪ এর অধীনে যেসব প্রার্থী জোট গঠন করেছেন তারাই অধিকতর যোগ্য বলে মনে করছি। আশা করছি ২৮ জুনের প্রাইমারি নির্বাচনে ব্যাপকসংখক ভোটার ব্যালট যুদ্ধে অংশ নেবেন। আর সেই যুদ্ধে যোগ্য প্রাথীকে জয়ী করার মধ্যদিয়ে আমেরিকাকে বেটার প্ল্যাসে পরিণত করার প্রত্যয় ত্বরান্বিত করবেন।

গ্রেগরী মিক্স বলেন, আমরা চাই সকল মানুষের কথা প্রশাসনে উপস্থাপিত হোক। তাহলেই তো অভিবাসীদের মধ্যে বিরাজিত সমস্যার সমাধানের পথ সুগম হবে।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, নিউইয়র্কের সিংহভাগ (৭০% এর বেশি) ভোটারই ডেমক্র্যাট হওয়ায়, দলীয় মনোনয়ন যারা পান তারাই নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনে বিজয়ী হোন। একই এ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্টে এই ৬ প্রবাসী জয়ী হতে পারলে মার্কিন রাজনীতিতে বাংলাদেশি আমেরিকানদের উত্থানের পথ-পরিক্রমা ত্বরান্বিত হবে। এছাড়া, এই প্রার্থীরা বেশ ক’বছর থেকেই ডেমক্র্যাটিক পার্টির ব্যানারে সমাজ সেবামূলক নানা কাজে জড়িত থাকায় নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করেছেন। শুধু বাংলাদেশী নয়, স্প্যানিশ, আফ্রিকান, দক্ষিণ এশিয়ানদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

কাউন্টি চেয়ারম্যানের অকুন্ঠ সমর্থন জ্ঞাপনের এই সমাবেশে বিশিষ্ট জনদের মধ্যে আরো ছিলেন শ্রমিক ইউনিয়নের লিডার মাফ মিসবাহ উদ্দিন, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর-সমাজ কর্মী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement