২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, বৃহস্পতিবার

ঋণ খেলাপি হতে চান না ব্যবসায়ীরা- এফবিসিসিআই

Advertisement

ব্যবসা-বাণিজ্যে মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব পড়ায় ঋণ পরিশোধে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।  

সম্প্রতি এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলেছেন, মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে এ সময়ে ঋণের টাকা ফেরত দিতে চান না ব্যবসায়ীরা। ঋণের টাকা ফেরত দিতে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক।  

করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঋণ শ্রেণিকরণে স্থগিতাদেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তা বাড়ানো হয়েছে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এফবিসিসিআই এ সুবিধা এখন চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত চেয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ এর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় অর্থনীতির বাস্তব সমস্যা অনুধাবন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সময়োপযোগী আর্থিক ও নীতিসহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোভিভ-১৯ পরবর্তী ধকল সন্তোষজনকভাবে মোকাবিলা করার সুযোগের সৃষ্টি হয়েছে। 

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জসিম উদ্দিনের এটাই প্রথম দাবি। গত বুধবার গভর্নর ফজলে কবিরকে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি এ দাবি জানান।

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের পুরো সময়ে এই সুবিধা পান ঋণগ্রহীতারা। চলতি বছরও কিছু সুবিধা চালু আছে, তবে আগের মতো নয়। এখন এফবিসিসিআই সব ধরনের ব্যাংকঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সব ধরনের সুবিধা চলতি বছরের পুরো সময়ে চালু রাখার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। তাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

এফবিসিসিআই বলছে, বিভিন্ন প্রণোদনা তহবিল অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থে শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি বাবদ সরকারি তহবিল থেকে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান, শিল্প ও সেবা খাতে চলতি মূলধন হিসেবে ঋণ প্রদান, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিম, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের জন্য বিশেষ সুবিধাসহ কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহ, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃ অর্থায়ন অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় ঋণ পরিশোধে ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে আপাতত ঋণ শোধ না করলেও কেউ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে না। তবে এবার আগের মতো গণসুবিধা না দিয়ে কিছুটা কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গণসুবিধা বহাল না থাকায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। তাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে জসিম উদ্দিন বলেন, করোনা মহামারির দ্বিতীয় টেউয়ের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে। এমনকি অধিকাংশ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের ঋণের কিস্তি সময় মতো পরিশোধ করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত সুবিধাসমূহের মেয়াদ বাড়ানো না হলে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনিচ্ছাকৃত খেলাপি গ্রাহকে পরিণত হবে, যা ব্যাংকিং খাতসহ পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement