২৪ জুলাই, ২০২৪, বুধবার

৬ বছরে এলেঙ্গা-রংপুর চার লেনের কাজ এগিয়েছে ৩৫ শতাংশ

Advertisement

গত ৬ বছরে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এলেঙ্গা-রংপুর চার লেনের কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩৫ শতাংশ। সাসেক সংযোগ প্রকল্প-২ এর আওতায় এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের এই কাজটি করছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়‌‌‌‌।

প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে ৩৫ শতাংশ। আজ রোববার  ভার্চুয়ালি প্রকল্পটির আরও দুটি প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপনসহ সাসেক করিডোর, এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক করিডোর ও সার্ক হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্তির জন্য এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ।

এ মহাসড়কটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নত করার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীসহ সারাদেশের নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘সাসেক সংযোগ প্রকল্প – ২’ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র যৌথ অর্থায়নে ১৯০.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কটিকে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ ৬-লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। নিরাপদ ও টেকসই সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের শিল্প ও বাজার অঞ্চলে ৫০ কিলোমিটার কংক্রিট পেভমেন্ট, ২৬টি সেতু, ৩৯টি আন্ডারপাস, ছয়টি ফ্লাইওভার, ১৮০টি কালভার্ট এবং পথচারী পারাপারের জন্য ১১টি পথচারী সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।

এছাড়া সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে পৃথক গ্রেডবিশিষ্ট একটি ইন্টারচেঞ্জ, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের সড়ক গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থাপনার জন্য তিনটি রোড অপারেশন ইউনিট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় আটটি সড়ক নির্মাণ প্যাকেজ ও একটি ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ প্যাকেজ রয়েছে। যার মধ্যে সাতটি সড়ক নির্মাণ প্যাকেজের মাধ্যমে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে হাটিকুমরুল হয়ে রংপুরের মডার্ন মোড় পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজ চলছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ সড়ক বাঁধ নির্মাণ কাজ ও ১৪৫টি কালভার্টের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সেতু-ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস সহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৩৫ শতাংশ। এ প্রকল্পের আরও দুটি প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর হবে আজ । চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত প্যাকেজ দুটি হলো- ডব্লিউপি৫ ও ডব্লিউপি১৩।

প্যাকেজ ডব্লিউপি৫-এর আওতায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত ১৩.৬ কিলোমিটার মহাসড়কের উন্নয়ন করা হবে, যার আওতায় রয়েছে এলেঙ্গা বাজারে একটি ফ্লাইওভার, আটটি সেতু, দুইটি আন্ডারপাস ও ১০টি কালভার্ট নির্মাণ। এ কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যস্ততম এলেঙ্গা ইন্টারসেকশন, ময়মনসিংহ ও ভূয়াপুর লিংক রোড অংশে যান চলাচল সহজ হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড ৬০১ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে প্যাকেজটির নির্মাণ কাজ তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে। নির্মাণ শেষে এক বছর ডিফেক্ট লায়েবিলিটি পিরিয়ড ও পরবর্তী ছয় বছরের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

প্যাকেজ ডব্লিউপি১৩-এর আওতায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড় ব্যবহার করে দেশের উত্তর এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২২টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। সাসেক-২ প্রকল্পের এ প্যাকেজের আওতায় হাটিকুমরুল মোড়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের পৃথক গ্রেড বিশিষ্ট মোডিফায়েড ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হবে। যার ফলে যানবাহনগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে এক পাশ থেকে যেকোনো পাশে বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারবে।

দূরপাল্লার যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য স্থাপন করা হবে একটি হাইওয়ে সার্ভিস এরিয়া। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কন্সট্রাকশন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপ ৭৪৩ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে ইন্টারচেঞ্জটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করবে। তিন বছরের নির্মাণ কাজ ও পরবর্তী এক বছর ডিফেক্ট লায়েবিলিটি পিরিয়ড শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছয় বছরের জন্য স্থাপনাটি রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত থাকবে।

নির্মাণাধীন ১৯০.৪ কিলোমিটার সড়ক, ইন্টারচেইঞ্জ, মনিটরিং ও কন্ট্রোল স্টেশন, বাস-বে ও আন্ডারপাসের কাজ হলে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা কমানোসহ সাসেক মহাসড়কটি নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি শক্তিশালী সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement