১৯ মে, ২০২৪, রবিবার

টানা ছুটিতে কক্সবাজারে গলাকাটা বাণিজ্য, আলু ভর্তা-ভাত ৩০০ টাকা

Advertisement

পর্যটন শহর কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ​ও রেস্টুরেন্টে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য। হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট ছাড়াও পরিবহনের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ। সাধারণ একটি রেস্টুরেন্টে শুধু ডাল-ভাতের দাম রাখা হচ্ছে ৪০০ টাকা। এক প্লেট ভাত ও আলুভর্তার দাম রাখা হচ্ছে ৩০০ টাকা।

পাশাপাশি শহরের অটোবাইক ও রিকশাচালকরাও দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছেন। ​এতে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। তবে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।

টানা তিন দিনের ছুটিতে পাঁচ লাখের বেশি পর্যটক এখন কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটন স্পটগুলো। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি গলাকাটা বাণিজ্যে মেতেছেন। হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট এবং পরিবহনগুলো আদায় করছে মনমতো ভাড়া। এই অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সচেতন মহল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হোটেল-মোটেলগুলোর রুম ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে। প্রতিটি হোটেলে প্রকাশ্যে এসব ভাড়া আদায় করা হয়। আগে যে রুম ভাড়া এক থেকে দুই হাজার টাকা ছিল, সে রুম ভাড়া তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

একইভাবে পরিবহন, খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্টগুলো পর্যটকদের কাছ থেকে দ্বিগুণ টাকা আদায় করছে। বিশেষ করে শহরের কলাতলী মোড় থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত ইজিবাইক ও রিকশা ভাড়া জনপ্রতি পাঁচ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা আদায় করা হয়। যদি কেউ একা যান তাহলে ৩০-৪০ টাকা ভাড়া নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রিকশা ও ইজিবাইকচালকরা নিচ্ছেন ১০০-১৫০ টাকা।

এক শ্রেণির ইজিবাইকচালকরা পর্যটক দেখলেই দ্রুত পাশ কাটিয়ে যান। পরে কৌশলে গাড়িতে তোলেন। ‘অনেক দূরের পথ’ এমন মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে ভিন্ন পথে নিয়ে আদায় করছেন অতিরিক্ত ভাড়া।

সুমাইয়া আক্তার ও মহসীন পারভেজ ঢাকা থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন গতকাল বুধবার। এখানে এসে খাবারের সমস্যায় পড়েছেন তারা। সুমাইয়া ও মহসীন জানিয়েছেন, দুপুরে কোরাল রেস্টুরেন্টে এক প্লেট ভাত আর আলুভর্তার দাম রেখেছে ৩০০ টাকা। দুই পিস কোরাল মাছের দাম রেখেছে ৭০০ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু কোরাল কিংবা কয়লা রেস্টুরেন্ট নয়, জেলার হোটেল-মোটেল, জোন, বিচ এলাকা, ইনানী ও মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিভিন্ন স্থানে যে চার শতাধিক রেস্টুরেন্ট রয়েছে, অধিকাংশগুলোতে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য। এতে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা।

হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম।

তিনি বলেন, ভরা মৌসুমে হোটেলের রুম ভাড়া একটু বেশিই থাকে। তবে যেসব হোটেল মালিক মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে আমরা অভিযোগ দেবো। পাশাপাশি খাবারের রেস্টুরেন্টগুলো অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। এতে পর্যটকদের বাড়তি টাকা গুনতে হয়। আমরা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে জানাবো।

জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. আবু সুফিয়ান বলেন, পর্যটকদের হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যেখান থেকেই অভিযোগ আসবে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নেবো। আশা করি, পর্যটকরা নিরাপদে সৈকত ও অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলো উপভোগ করতে পারবেন। এ জন্য কাজ করছে আমাদের একাধিক টিম।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement