২২ জুন, ২০২৪, শনিবার

ছাদে কামরাঙার চাষ পদ্ধতি

Advertisement

কামরাঙা একটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল। গ্রামাঞ্চলে বেশিরভাগ বাড়িতেই কামরাঙা গাছ দেখা যায়। কামরাঙার স্বাদ কিছুটা টক-মিষ্টি। অন্যান্য জাতের চেয়ে থাই জাতের কামরাঙার স্বাদ মিষ্টি।

এই মিষ্টি কামরাঙা অতি সহজেই ছাদে টবে চাষ করা যায়। ফলনও ভাল হয়। মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই এ জাতের মিষ্টি কামরাঙার কলমের চারা থেকে ফল পাওয়া সম্ভব। কম-বেশী সারা বছরই ফল গাছে থাকে। জুন-জুলাই এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারীতে বেশী পরিমানে ফল পাওয়া যায়। এমনকি ১২ ইঞ্চি টবেও এর চাষ করা যায়। যে কোন মাটিতেই মিষ্টি কামরাঙার চাষ সম্ভব। কামরাঙার রোগ বালাই নেই বললেই চলে।

কামরাঙা চাষ পদ্ধতিঃ

কামরাঙার চারা ছাদে লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে। ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে ড্রামের তলায়। যার ফলে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে। ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। তারপর বেলে দোআঁশ মাটি ২ ভাগ, গোবর ১ ভাগ, টি,এস,পি সার ৪০-৫০ গ্রাম, পটাশ সার ৪০-৫০ গ্রাম, একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টব ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন।

মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে। উক্ত টবে যখন মাটি ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা রোপন করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে চারা রোপনের সময় গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায়। সোজা করে লাগাতে হবে চারা গাছটি। একই সাথে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে। গাছের গোড়া দিয়ে যাতে বেশী পানি না ঢুকতে পারে।

গাছটিকে একটি সোজা কাঠি দিয়ে বেধে দিতে হবে। চারা লাগানোর পর প্রথমদিকে পানি কম দিতে হবে। পরে ধীরে ধীরে পানি বাড়াতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে গাছের গোড়ায় যেন পানি জমে না থাকে আবার বেশী শুকিয়েও যেন না যায়। পানি বেশী হলে কামরাঙা গাছের পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে ঝরে যায় আবার পানি একদম শুকিয়ে গেলেও একই অবস্থা হয়।

কামরাঙা গাছের অন্যান্য পরিচর্যাঃ

গাছ লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২৫-৩০ দিন পর পর সরিষার খৈল পচা পানি প্রয়োগ করতে হবে। ১০ দিন পানিতে সরিষার খৈল ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরে সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে। ১ বছর পর টবের কিছু মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে। গাছের মরা ডাল গাছে কেটে দিতে হবে। আশানুরূপ ফলন পেতে হলে প্রতিবছর একবার ডালগুলি কেটে গাছকে ছোট রাখতে হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement