৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, মঙ্গলবার

জীবননগরে কৃষি কাজে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার

Advertisement

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। শ্রমিক সাশ্রয়ী ও কম সময়ে অধিক ফলনের কারণে উপজেলার কৃষকেরা এ পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবখালী গ্রামের এসএমই কৃষক রাজেদুল ইসলাম বলেন, সামাজিক মাধ্যম ইউটিউব দেখে এবং সম্প্রতি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কর্তৃক একটি প্রশিক্ষণে গিয়ে সরজমিনে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই এ বছর প্রথম সাড়ে চার বিঘা জমিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপন শুরু করেছেন তিনি। এটি যেমন শ্রমিক সাশ্রয়ী তেমন সময়ও অনেক কম লাগে।

তিনি জানান, মাত্র এক লিটার তেল খরচ করলে প্রায় দেড় বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপন করা সম্ভব। সনাতন পদ্ধতির চেয়ে অর্ধেক খরচে আধুনিক পদ্ধতিতে প্রতি বিঘা জমি চাষ করা যায়। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী প্রতি বিঘা জমিতে রোপণে দেড় হাজার টাকা সাশ্রয় হবে।

রাইস ট্রান্সপ্লান্টার চালক শাহজামাল বলেন, তিনি মাত্র ৫০০ টাকা নিয়ে এক বিঘা জমিতে চারা রোপণ করেন। এ মেশিন দিয়ে অল্প জায়গায় অনেক বেশি চারা রোপণ করা যায়।

তিনি জানান, এ পদ্ধতে চারা রোপণের সুবিধা হচ্ছে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে ফলন কম হলেও দু’মণ বেশি হবে। দু’হাজার ৪০০ থেকে আড়াই হাজার টাকার স্থলে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় ধান রোপণ সম্পন্ন করা যাবে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিন দিয়ে ধান রোপনে বেশি কুশিতে বেশি ধান উৎপাদন হয়। যতই দিন যাচ্ছে ততই এ পদ্ধতিতে ধান রোপনের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

জীবননগর উপজেলা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার পদ্ধতি প্রথম ধান রোপন শুরু করেন উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের চাষি রমজান। তিনি বলেন, এ পদ্ধতে ধান রোপন করা হলে একদিকে সময় অন্যদিকে অর্থ বাঁচবে। আবার ফলনও বেশি হবে। এ পদ্ধতিতে চাষ দেখে প্রথমে অনেক কৃষক অনেক মন্তব্য করবে। তবে ধান রোপনের ১০-১৫ দিনের মাথায় এবং উৎপাদনের সময় সেই একই কৃষক রাইস ট্রান্সপ্লান্টার পদ্ধতিতে ধান রোপনে আগ্রহী হয়ে উঠবেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মাত্র চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক ব্যয়ে সব কাজ হয়ে যাবে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার সারমিন আক্তার বলেন, বর্তমানে শ্রমিক সঙ্কট এবং মজুরিও অনেক। যে কারণে কৃষকেরা চাষে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য ধান রোপণে মেশিন ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। একটি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের দাম প্রায় চার লাখ টাকা। একজন কৃষক এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিলেই একটি মেশিন পেয়ে যাবেন। বাকি ৭০ ভাগ টাকা সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে।

তিনি জানান, উপজেলার কৃষকদের মাঝে দিন দিন কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। একইভাবে মেশিন দিয়ে ধান রোপনেও তারা আগ্রহী হচ্ছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement