১৭ জুলাই, ২০২৪, বুধবার

“ড্রেনেজ সিস্টেমে নাকাল নগরবাসী”

Advertisement

আজ মঙ্গলবার সকালের ৩ ঘন্টার ৮৫ মিলিমিটারের বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। এই মৌসুমে এটাই সবচেয়ে ভারী বৃষ্টি বলে মনে করা হচ্ছে। পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় অফিসগামী মানুষসহ সাধারণ জনগণের ভোগান্তির সুরাহা নেই। আবহাওয়া দপ্তরের ভাষ্যমতে, সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় দমকা হওয়া সহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরে ১ নং সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে।

রাজধানীর  বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার কাজ হচ্ছে না। আবার কোনো কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত  ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই। যে কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি র্সবত্রই পানিতে ডুবে যায়। 

পুরান ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সব চেয়ে খারাপ। হালকা বৃষ্টি হলেই ড্রেন ভরে রাস্তায় পানি জমে যায়। দুর্গন্ধযুক্ত ও  পঁচা পানিতেই চলতে হয়ে পুরান ঢাকাবাসীকে। রাস্তয় এসব র্গতে যানবাহন পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে সড়কে র্দীঘ যানজটরে সৃষ্টি হচ্ছে। 

সময় মত পানি নেমে না যাওয়ায় প্রধান প্রধান সড়কে পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও সড়কে ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকায় অনেকেই দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।  আবার পানি বদ্ধতার কারণে কোথাও কোথাও যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।

গাড়ীর ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করায় পথের মাঝে বন্ধ হয়ে রয়েছে একাধিক গাড়ি। রাস্তায় পানি থাকায় হাতে জুতা নিয়ে পথ চলতে হচ্ছে সবাইকে। 

অনেক প্রাইভেটকারও অচল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে অচল হয়ে যাওয়া একটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দেওয়ার জন্য তিনশ টাকা দিয়ে দুই জনকে ভাড়া করে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরি  করা হলেও সে ব্যবস্থা এখন ঢাকা মহানগরীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদ বলেছেন অপরিচ্ছন্ন ও দূর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই ঢাকা মহানগরীতে মূলত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশেন ও ওয়াসা ড্রেনেজ প্রকল্পে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব সংস্থাগুলোর ঠেলাঠেলির কারণে চলতি র্বষার আগে বেশির ভাগ ড্রেনই পরিষ্কার করা হয়নি। এতে ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাজধানীতে সাড়ে তিনশ কিলোমিটার স্টর্ম স্যুয়ারেজ ড্রেন রয়েছে যার দেখভাল করে ঢাকা ওয়াসা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশেন রয়েছে ২ হাজার ৫১ কিলোমিটার উন্মুক্ত (সারফেস) ড্রেন। এসব মাধ্যমে নগরীর বৃষ্টির পানি বিভিন্ন জলাশয়, খাল বা নদীতে পড়ে। মূলত বৃষ্টির পানি ওই সারফেসের ড্রেন দিয়ে বক্স কালর্ভাট বা স্টর্ম স্যুয়ারজের লাইনে প্রবেশ করে। স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন বা বক্স কালর্ভাট দিয়ে সরাসরি সেই পানি নিচু জলাশয়ে গিয়ে জমা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নগরীর ময়লা আবর্জনা উন্মুক্ত ড্রেনগুলো জ্যাম হয়ে থাকে আবার এসব আবর্জনার একটা অংশ গিয়ে র্স্টম স্যুয়ারেজ লাইন ও বক্স কালভার্টের প্রবাহও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভারী বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশনের আর কোনো জায়গা থাকে না। নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিগত সময়ে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও তাতে সুফল মিলেনি বরং বছর বছর প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। এসব ড্রেনেজ ব্যবস্থায় কোনো সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাটিতে পানি রিচার্জের জায়গা কমে যাওয়ায় ১৯৮৮ সালের পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাই এখন অপ্রতুল।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেরে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলনে, ডিএনসিসি এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এমন সকল স্থানে ওয়াসা এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষপে গ্রহণ করা হবে । এরই মধ্যে কালশী খাল থেকে ডিএনসিসি প্রায় ৮০ ট্রাক ময়লা পরিষ্কার করেছে। ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতে পারলে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমবে।

ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা বলেছেন, সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করে না। ময়লা আবর্জনাও ঠিক মতো অপসারণ করতে পারে না। এসব ময়লা গিয়ে ওয়াসার ড্রেনের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। করপোরেশনেরে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওয়াসা তাদের বক্স কালর্ভাট ও র্স্টম স্যুয়ারেজ ড্রেন পরিষ্কার রাখে না। ফলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এসব বিষয় নিয়ে  সংস্থাগুলোর র্শীষ ব্যাক্তিগণও পরস্পরে প্রতি বিষদগার করেছেন। 

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালে ঢাকার সব ড্রেনেজ ব্যবস্থা সিটি করপোরেশনের হাতে ন্যস্ত করার প্রস্তাব দেন। 

সচেতনতা না বাড়ালে কোনো পদক্ষেপে এই ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব নয়। তা না হলে জনগনকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে আজীবন ।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement