১৭ জুন, ২০২৪, সোমবার

ক্ষমতালোভী তালেবানে ভাগাভাগির কোন্দল, নতুন সরকার গঠন আবার স্থগিত

Advertisement

ক্ষমতা দখল করলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর ভাগাভাগির মতানৈক্যে সরকার গঠন করতে পারছেনা আফগানিস্তানের ক্ষমতালোভী জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান। কোন্দলের কথা সরাসরি স্বীকার না করলেও আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটিতে নতুন সরকার গঠন স্থগিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।

গতকাল শনিবার সরকার গঠনের কথা ছিল। এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর সরকার গঠনের কথা থাকলেও তা হয়নি। ভারতীয় সংবাদপত্র টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, একদিন পেছানোর পর আজ শনিবার নতুন সরকার গঠনের কথা থাকলেও তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ‘নতুন আফগান সরকার ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে আগামী সপ্তাহে।’

সরকার গঠনে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য তালেবান কর্তৃক গঠিত কমিটির সদস্য খলিল হাক্কানি বলেছেন, ‘কাবুলে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের জন্য তালেবানের প্রস্তাবই প্রকৃতপক্ষে এই বিলম্বের কারণ।’

তিনি বলেছেন, ‘তালেবান একাই সরকার গঠন করতে পারে কিন্তু আমরা এমন একটি সরকার গঠন করতে চাচ্ছি যেখানে সমাজের সব জাতি, গোষ্ঠী ও অংশের সঠিক প্রতিনিধিত্ব থাকে। শুধু তালেবানের সরকার বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’

খলিল হাক্কানি বলেছেন, আফগানিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জমিয়তে-ই-ইসলামীর প্রধান গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার এবং সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির ভাইও সরকারে থাকবেন। উল্লিখিত দুজনই তালেবানকে সমর্থন দিয়েছেন।

তালেবান আফগানিস্তানে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার ২২ দিন পার হয়ে গেলেও দেশটিতে সর্বদলীয় একটি নতুন সরকার গঠনের জন্য আলোচনা চললেও তা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সব পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে।

শুক্রবার জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছিলেন, নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে শনিবার। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বারাদার সম্ভবত নতুন আফগান সরকারের প্রধান হবেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আফগানিস্তানে যে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে তার প্রধান হতে যাচ্ছেন মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। অন্যদিকে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হতে যাচ্ছেন তালেবানের প্রধান হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদা।

নতুন সরকারে আখুনজাদা ও বারাদার ছাড়াও শীর্ষে পদে থাকবেন তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের ছেলে মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব, শীর্ষ তালেবান নেতা শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান সিরাজুদ্দিন হাক্কানি।

নতুন সরকারের ঘোষণা দিতে তালেবানের শীর্ষ নেতারা রাজধানী কাবুলে পৌঁছেছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তালেবানের এক জ্যেষ্ঠ নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেছেন, সরকার গঠনের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই ভাগাভাগি নিয়ে তালেবানের ভিতরেই কামড়াকামড়ি শুরু হয়ে গেছে।

সরকার গঠনের আগেই অবশ্য চার মন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেছে তালেবান। তারা হলেন, অর্থমন্ত্রী গুল আগা, ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদর ইব্রাহিম, ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা আবদুল কাইয়ুম জাকির ও ভারপ্রাপ্ত উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী আবদুল বাকি হাক্কানি।

অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির ছবিসহ এক টুইট বার্তায় বৃহস্পতিবার তালেবান নেতা আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি জানিয়েছিলেন, ‘তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্ট প্যালেসে সব বন্দোবস্ত করছে। ওই অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের ঘোষণা দেওয়া হবে।’

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসা তালেবান আমেরিকান নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর হাতে ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত অনির্বাচিত পরিষদের মাধ্যমে কঠোর শরিয়া আইনে আফগানিস্তান শাসন করলেও এবার নমনীয় হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো তালেবানের এমন আশ্বাসে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছে, নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও যে কোনো অর্থনৈতিক সহায়তা নির্ভর করবে ক্ষমতায় আসার পর তালেবান কি করে তা দেখার ওপর।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement