১৭ জুলাই, ২০২৪, বুধবার

নকল মশার কয়েলে বাজার সয়লাব

Advertisement

দিন-রাতের বাছবিচার নেই, মশার কামড়ে অতিষ্ট মানুষ।। অভিজাত এলাকা কিংবা বস্তি, অফিসপাড়া অথবা বাসাবাড়ি; মশার জ্বালায় কোথাও সুস্থির হয়ে দুদণ্ড বসে থাকার জো নেই। সারাক্ষণ চলে হাত-পা ছোড়াছুড়ি। এ অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে বাধ্য হয়ে মশার কয়েল  কিনছে মানুষ। অলিগলিতে পাওয়া যায় এই কয়েল। তবে মশাকে কাবু করা যাচ্ছে না কিছুতেই। উল্টো মশা নিধনের বাজারি সরঞ্জামের প্রয়োগ-অপ্রয়োগে ঝুঁকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, মশার ওষুধের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ায় হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সার, ফুসফুস, কিডনির রোগসহ নানা রোগের বিপদ বাড়ছে। মশার ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর মান ও প্রয়োগ নিয়েও বাড়ছে সংশয়।  যদি সঠিক ডোজ মেনে এই কয়েল তৈরী করা যায় তবে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। কিন্তু এ দেশে সমস্যা হচ্ছে পারমেথ্রিনও সঠিক মাত্রায় থাকে না। ব্যবহারকারীরাও নিরাপদ ডোজ মানে না। মশা নিধনের বাকি ওষুধ এমনিতেই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কীটনাশক সরাসরি মানুষের ফুসফুস, লিভার ও কিডনির ক্ষতি করে। বড়দের ক্ষেত্রে ক্ষতির সময়কাল দীর্ঘমেয়াদি হলেও শিশুদের জন্য দ্রুতই বিপদ বয়ে আনে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড.রফিকুল ইসলাম বলেন, কীটনাশক-রাসায়নিক কেবল মানুষ নয়, পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্যও বিপদ বয়ে আনে। পানির সঙ্গে এসব কীটনাশক সহজেই ছড়িয়ে যায়। 

বিশেষজ্ঞরা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে মশার কয়েলে সর্বোচ্চ দশমিক ০৩ মাত্রার ‘অ্যাকটিভ ইনগ্রিডিয়েন্ট’ ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। মশা তাড়ানোর জন্য এ মাত্রাই যথেষ্ট কার্যকর। অন্যান্য কীটনাশকের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের মশার ওষুধের লাইসেন্স প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কৃষি মন্ত্রণালয়ের। একেক ধরনের মশার জন্য একেক ধরনের ওষুধ রয়েছে। বয়স্ক মশার জন্য এক ওষুধ, লার্ভার জন্য আরেক ওষুধ। তবে সাধারণত দেশে মশা নিধনে বায়োঅ্যালোথ্রিন, ডি-ট্রান্স অ্যালোথ্রিন, টেট্রাথ্রিন, ডেল্ট্রামেথ্রিন, বায়োলেথ্রিন, মেটোফ্লুথ্রিন, সাইপারমেথ্রিন, ইমিপোথ্রিন, ডায়াজনিনসহ আরো কিছু উপাদান বেশি ব্যবহৃত হয়। 

বালাইনাশক অধ্যাদেশ-(পেস্টিসাইড অর্ডিন্যান্স ১৯৭১ ও পেস্টিসাইড রুলস ১৯৮৫) অনুসারে মশার কয়েল উৎপাদন, বাজারজাত ও সংরক্ষণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কয়েলের নমুনা পরীক্ষা করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ‘পাবলিক হেলথ প্রোডাক্ট’ (পিএইচপি) নম্বর অনুমোদন দেবে। এরপর পিএইচপি কাগজপত্র দেখে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন মিললেই কেবল বালাইনাশক পণ্য হিসেবে মশার কয়েল উৎপাদন ও বাজারজাত করা যাবে। কিন্তু বাজারের অধিকাংশ মশার কয়েলের পিএইচপি নম্বর থাকলেও বিএসটিআইয়ের অনুমতি নেই। কোনোটিতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন থাকলেও পিএইচপি নম্বর নেই। আবার কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে ভুয়া পিএইচপি নম্বরে অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিএসটিআই সূত্র জানায়, এ মুহূর্তে বাজারে ৪৯টি কোম্পানির ৬০ ধরনের মশার কয়েলের অনুমতি রয়েছে। 

রাজশাহী, কুষ্টিয়া, নাটোর এবং দিনাজপুরে নকল মশার কয়েলের রমরমা ব্যবসা করা হচেছ। স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। জনগনের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে এ ধরণের নকল কয়েলের বিক্রি বন্ধ করা জরুরি।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement