২২ জুন, ২০২৪, শনিবার

কোভিড মহামারি পরবর্তী পূনঃবিনির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

Advertisement

করোনাভাইরাস মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিশ্বে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন।  যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত শান্তির সংস্কৃতি বিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চতর ফোরামে দেয়া স্বাগত বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমন একটি শান্তির বিশ্ব গড়তে হবে হবে যেখানে জাতি, গোত্র, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকলে অর্থবহভাবে অবদান রাখতে পারি। কারন আগের থেকেও ভালো অবস্থায় ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে কোভিড পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে শান্তির সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করার কোনো বিকল্প নেই।

কোভিড পরবর্তী পূনরুদ্ধার কার্যক্রমগুলোর অন্তর্ভূক্তি এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঘূরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জনের বিষয়টি আরও এগিয়ে নিতে শান্তির সংস্কৃতি যে রূপান্তরধর্মী ভূমিকা পালন করতে পারে তা তুলে ধরা হয় উচ্চ পর্যায়ের এই ফোরামে। দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে উদ্বোধনী পর্ব ছাড়াও একটি প্লেনারি সেশন এবং ভার্চুয়াল প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ধারণাটি উপস্থাপন এবং ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতিবছর সর্বসম্মতিক্রমে তা রেজুলেশন হিসেবে গৃহীত হওয়া এবং ২০১২ সাল থেকে উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম আয়োজন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। উদ্বোধনী পর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি, ইউএন অ্যালায়েন্স ফর সিভিলাইজেশন এর উচ্চ প্রতিনিধি, জাতিসংঘ মহাসচিবের শেফ দ্যা ক্যাবিনেট এবং ইউনেসকো’র প্রতিনিধি।

কোভিড থেকে স্থিতিশীল পুনরুদ্ধারে শান্তির পরিবেশ বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টায় ‘শান্তির সংস্কৃতি’কে মুলভাগে স্থাপন করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া শান্তি ও উন্নয়নের পারস্পরিক গভীর আন্ত:সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে যথাসময়ে এজেন্ডা ২০৩০ এর বাস্তবায়নের প্রতিও আহ্বানও জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতিমারি থেকে সফল পুনরুদ্ধারের জন্য অবশ্যই বৈশ্বিকভাবে টিকাদান কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তিনি ভ্যাক্সিনের জাতীয়করণকে দূর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেন এবং বিশ্বকে এধরণের ভ্যাক্সিন বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে উন্নয়ন অংশীদারদের আরও বেশি মানবিক হওয়ার, এবং যাদের ভ্যাকসিন প্রয়োজন বৈষম্যহীনভাবে তাদের তা প্রদান করার। ভ্যাকসিন হওয়া উচিত বৈশ্বিক সাধারণ সম্পদ”।

এদিকে বিকালে “শান্তির সংস্কৃতিতে সিভিল সোসাইটি সংস্থা সমূহের অংশগ্রহণ” বিষয়ক একটি ভার্চুয়াল প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় যা সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এতে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

প্যানেলিস্ট হিসেবে প্রদত্ত বক্তব্য রাষ্ট্রদূত ফাতিমা ডিজিটাল বিভাজন দূর করা এবং প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের উপর জোর দেন যাতে শিক্ষায় সকল শিশুর নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। সমাজে অসমতা উদ্বেগজনকহারে বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সামগ্রিকভাবে অসমতা দূর করতে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। কোভিড থেকে অন্তর্ভূক্তিমূলক পুনরুদ্ধারের জন্য হিংসাত্বক বক্তব্য, জাতিগত বিদ্বেষ ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে সংলাপসহ প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা গ্রহণের আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রেজুলেশন-‘ডিক্লারেশন অন দ্যা কালচার অব পিস এন্ড প্রোগাম অব অ্যাকশন’ অনুযায়ী প্রতিবছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আহ্বানে শান্তির সংস্কৃতি বিষয়ক জাতিসংঘ উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম অনুষ্ঠিত হয় যার আয়োজন করে বাংলাদেশ। প্রতিবছর বাংলাদেশ আনীত এই রেজুলেশনটিতে বিপুল সংখ্যক দেশ সহ-পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে এবং এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে সদস্য দেশসমূহের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রী ও সিভিল সোসাইটি প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement