৩ মার্চ, ২০২৪, রবিবার

প্রকল্প শুরুর এক যুগ পর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের গতিপথ নিয়ে আপত্তি

Advertisement

প্রকল্প শুরুর এক যুগ পর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের গতিপথ নিয়ে আপত্তি তুলেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। হাতিরঝিলে এক্সপ্রেসওয়ের পিলার নির্মাণে রাজউক অনাপত্তি দিলেও নতুন আইনি জটিলতা সামনে এসেছে। ফলে ধীরগতিতে চলা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ আরও দেরি হতে পারে।

গতকাল রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পরিষদের ১৬তম সভায় বিষয়গুলো উঠে আসে। সভা সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস কারওয়ান বাজারের পান্থকুঞ্জ পার্কের ওপর এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক (র‌্যাম্প) নির্মাণে আপত্তি জানান।

জটিলতা নিরসনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি করা হয়েছে। কমিটি গঠনের কথা সভা শেষে ওবায়দুল কাদের ব্রিফিংয়ে জানান। রাজধানী ও আশপাশের পাঁচ জেলায় যোগাযোগ অবকাঠামো প্রকল্পের সমন্বয় ডিটিসিএর কাজ। ডিটিসিএ থাকতে কেন কমিটি? এ প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কমিটি করা হয়েছে আরও ভালোভাবে সমন্বয় করতে। বিমানবন্দর থেকে চিটাগং রোডের কুতুবখালী পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সড়ক নির্মাণে বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তি ২০১১ সালে সরকারের অনুমোদন পায়। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির নেতৃত্বে তিনটি প্রতিষ্ঠান ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। ২২ বছর টোল আদায় করে বিনিয়োগ তুলে নেবে।

২০১৬ সালে এক্সপ্রেসওয়ে চালুর কথা থাকলেও এক যুগে তেজগাঁও পর্যন্ত এগিয়েছে নির্মাণকাজ। এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠনামায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩১টি র‌্যাম্প থাকবে। ২০২১ সালে চূড়ান্ত হওয়া নকশা অনুযায়ী, তেজগাঁওয়ের এফডিসি রেলক্রসিং হয়ে এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প হাতিরঝিল থেকে কারওয়ান বাজারে মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের নিচ দিয়ে পান্থকুঞ্জ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত হয়ে বুয়েট পর্যন্ত যাবে। সেতু কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

সূত্র জানিয়েছে, সভায় ডিসএসিসির মেয়র বলেন, করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই পান্থকুঞ্জের ওপর নিয়ে র‌্যাম্প নির্মাণের অ্যালাইনমেন্ট ঠিক করা হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ে করা হচ্ছে, ঢাকা শহরের ভেতরে না ঢুকে এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যেতে। শহরের ভেতরে ওঠানামার র‌্যাম্প থাকলে যানজট আরও বাড়বে। তবে সেতু সচিব মনজুর হোসেন সমন্বয়হীনতার অভিযোগ নাকচ করেন সভায়।

পান্থকুঞ্জে র‌্যাম্প ও নিয়ন্ত্রণ ভবন নির্মাণে জটিলতার বিষয়ে এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এএইচএমএস আকতার জানান, তিনি সভায় ছিলেন না। তবে পিডি গণমাধ্যমকে বলেন, পান্থকুঞ্জ সিটি করপোরেশনের জমি। তা ব্যবহারে দাম নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।

প্রকল্প সূত্র বলছে, মেয়র পরিবর্তনে করপোরেশের অবস্থান বদল হয়েছে। অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণে আগের মেয়রের সম্মতি ছিল। হাতিরঝিল-বুয়েট র‌্যাম্প নির্মাণ হবে কিনা- এই সিদ্ধান্ত দেবে সমন্বয় কমিটি। অনুমোদন না দিলে র‌্যাম্প হবে না। তবে এতেও বিপত্তি রয়েছে। পিপিপির প্রকল্প হওয়ায়, বিনিয়োগকারীকে চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আদালতের রায়ে হাতিরঝিল থেকে উচ্ছেদ হয়েছে বিজিএমইএ ভবন। গত মে মাসে অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদে আদেশ দেন হাইকোর্ট। চলতি মাসে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি পেয়েছে রাজউক। হাতিরঝিলে এক্সপ্রেসওয়ের খুঁটি নির্মাণ করা হবে। যদিও পিডি বলেছেন, পানিতে নয়, ঝিলের পাড়ে ও বিয়াম স্কুলের সামনে পিলার থাকবে। পাড়ে নির্মাণ করা র‌্যাম্পের কিছু অংশ পানিতে যেতেও পারে। এই অবস্থায় আদালতের আদেশের বিষয়টি সামনে এসেছে।

ওবায়দুল কাদের একাধিকবার বলেছিলেন, ২০২০ সালে এক্সপ্রেসওয়ে চালু হবে। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের মার্চে চালু হবে। দ্রুত কাজ চলছে বলে পিডি দাবি করলেও কবে চালু হবে, তা জানাতে পারেননি। সভায় জানানো হয়, এক্সপ্রেসওয়ের সার্বিক অগ্রগতি ৫৬ শতাংশ। বিমানবন্দর-মহাখালী অংশ এগিয়েছে ৯২ দশমিক ১৫ ভাগ। মহাখালী-কমলাপুর অংশে অগ্রগতি ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ। সেখান থেকে চিটাগং রোড অংশের কাজ এখনও শুরুই হয়নি।

ডিটিসিএ আইন অনুযায়ী, বছরে অন্তত তিনবার পরিচালনা পরিষদের সভা হবে। তবে গতকালের সভাটি হয় ১৯ মাস পর। ২০১৯ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ১২তম সভায় ওঠা সিটি বাস টার্মিনাল নির্মাণে নিমতলীতে রেলের জমি হস্তান্তরের বিষয়টি গতকালের সভায়ও ওঠে। এ নিয়ে রেল সচিব ড. হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বাদানুবাদ হয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলীর।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ১৯৮৪ সালে জমি হস্তান্তরে চুক্তি হয়েছে। তবে রেল জমি দিচ্ছে না মামলার কারণ দেখিয়ে। অথচ সেখানে তারা নিজেরা স্থাপনা নির্মাণ করতে চায়। মামলা থাকলে রেল কীভাবে স্থাপনা করবে? জমি দিয়ে দিক, মামলা সিটি করপোরেশন বুঝবে।

নগর থেকে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের আলোচনা হয় সভায়। জানানো হয়. কাঁচপুর, বাঘাইর, হেমায়েতপুর ও ভাটুলিয়ায় চারটি টার্মিনালের উদ্যোগ নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। ঘাটারচরে সিটি টার্মিনাল নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের অনুমতি পাওয়া গেছে।

সভা শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিমতলীর জমি হস্তান্তর সাব-কমিটির আলোচ্যসূচিতে থাকবে। বর্ষার আগে সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষ করতে হবে। রাস্তা কাটতে সিটি করপোরেশনকে আগাম জানাতে হবে। সব সংস্থার প্রকল্প সমন্বয় করতে হবে। ইটের বদলে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের ব্যবস্থা নিতে হবে। যতই আট লেনের সড়ক, উড়াল সড়ক নির্মাণ হোক, শৃঙ্খলা না থাকলে সব উন্নয়ন ম্লান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে গত ১৪ বছরে। কিন্তু অভাব শৃঙ্খলার।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement