২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, সোমবার

প্রথমবারের মতো বগুড়ায় চাষ হচ্ছে মেক্সিকোর চিয়া

Advertisement

প্রথমবারের মতো বগুড়ায় চিয়া সিড বা চিয়াবীজ নামে এক নতুন ধরনের ফসলের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। মেক্সিকোসহ মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে মূলত এ ফসলের বাণিজ্যিক আবাদ হয়। অত্যন্ত পুষ্টিগুণের এ শস্য চাষে অধিক লাভের সম্ভাবনা দেখছেন বগুড়ার কৃষকরা।

চিয়াবীজ হলো ভোজ্য ফসল। বীজগুলো ভিজিয়ে রাখলে তাদের ওজনের ১২ গুণ পর্যন্ত তরল শোষণ করতে পারে। নাশতার সিরিয়াল, এনার্জি বার, দই, রুটিসহ বিভিন্ন খাবারে চিয়াবীজ মেশানো যায়। বগুড়ার কয়েক কৃষক এর পরীক্ষামূলক চাষাবাদ শুরু করেছেন। নতুন জাতের এই ফসল দেখতে আসছেন অন্য কৃষকরাও। পরীক্ষামূলক আবাদ সফল হলে এর উৎপাদন বাড়তে থাকবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে।

কয়েক বন্ধুকে নিয়ে এ বছরই চিয়াবীজের চাষাবাদ শুরু করেছেন জেলার সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাই নগরের কৃষক আব্দুল মোমিন। তিনি চরের তিন বিঘা জমিতে নভেম্বর মাসে এর চাষাবাদ শুরু করেন। চারমাসি এ ফসলে এরই মধ্যে ফুল ফুটতে শুরু করেছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, এই ফসলের উৎপাদন খরচ কম, লাভ বেশি। এটি ভুট্টা গাছের মতো লম্বা হয়ে থাকে। ফুল হয় সূর্যমুখীর মতো। তবে ফুলের রং বেগুনি। ফুল থেকে হয় দানার মতো শস্য। দেখতে তোকমার দানার মতো। দানার রং সাদা, ধূসর, বাদামি ও কালো হয়। চিয়া সিডে দুধের ৫ গুণ, কমলার ৭ গুণ, পালং শাকের ৩ গুণ, কলার দ্বিগুণ, স্যামন মাছের ৮ গুণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে বলে সংশ্নিষ্টরা জানান।

এ ফসলের চাষ সীমিত আকারে তিন বছর আগে যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় শুরু করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বগুড়ার কৃষক আব্দুল মোমিন একটি বীজ কোম্পানিতেও কাজ করেন। সেই সুবাদে তিনি যশোর গেলে এই চিয়াবীজ চাষ দেখতে পান। পরে তিনি যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাগার থেকে এর চাষাবাদ বিষয়ে ধারণা নেন এবং সেখানে মাঠ পর্যায়ে চাষীদের সঙ্গে কথা বলে তিন কেজি বীজ সংগ্রহ করেন। গত অক্টোবরে তিনি এর চাষাবাদ শুরু করেন।

আব্দুল মোমিন জানান, প্রতি কেজি চিয়াবীজের দাম ১ হাজার টাকা। তবে খাদ্যশস্য হিসেবে বিক্রি হয় ৯০০ টাকায়। এটি তোকমার দানার মতো ভিজিয়ে রেখে শরবত করে খাওয়া যায়। তিনি বলেন, নতুন জাতের এই ফসলে অনেক লাভ হয় জানতে পেরে প্রথম চাষাবাদ শুরু করেন। ভালো লাভ হলে আগামীতে অন্য কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে আরও বেশি জমিতে এর চাষাবাদ করবেন। প্রতি বিঘা জমিতে চাষাবাদে খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা।

সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, এটির পুষ্টিগুণ বেশ ও লাভজনক ফসল। প্রতি বিঘায় ৭০ থেকে ৮০ কেজি উৎপন্ন হয়। এটি পানিতে ভিজিয়ে স্যুপ-সালাদের সঙ্গে খাওয়া যায়। চিয়া সিড মানুষের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

তিনি আরও জানান, এ অঞ্চলে এটিই প্রথম চাষাবাদ হচ্ছে। আগামীতে এর চাষাবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএসের পুষ্টিবিদ ড. খুরশিদ আলম বলেন, চিয়াবীজ এক ধরনের সুপার ফুড খাদ্যশস্য। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তে সুগার স্বাভাবিক এবং মলদ্বার পরিস্কার রাখে। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়, ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সার রোধ করতে সহায়ক হয়, ভালো ঘুম হয়, খাদ্য ক্রিয়ায় ভালো হজম শক্তি ঘটায়, হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা দূর করে।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক এনামুল হক বলেন, নতুন ধরনের এই ফসল বাজারজাতে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক সহায়তা দিয়ে যাবে।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement