২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, রবিবার

বিনা যুদ্ধে সমাধান (পর্ব-১)

Advertisement

লিগ্যাল ফিচার

চার্লি চ্যাপলিনের ভাষায়- ”এ বিশ্বে স্থায়ী কিছুই নয়, এমনকি আমাদের সমস্যাগুলোও না। সমস্যা যতই গুরুতর হোক না কেন, তা সমাধানের উত্তম পন্থা হলো সমঝোতা অর্থাৎ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি যথোপযুক্ত সিদ্ধান্তে আসা”। এর সাথে মিল রেখেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিধিমালা দেশের প্রচলিত আইনগুলোর মধ্যে এক যুগান্তকারী প্রক্রিয়া, যা ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে আরো বেগবান ও ত্বরান্বিত করেছে।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মূলত বিচারককে সমঝোতাকারীর ভূমিকা পালন করতে হয়। বিচারকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আইনজীবীদের সহযোগিতা ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব না।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মূল লক্ষ্য মামলায় জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করা। আমাদের দেশে তিন ধরনের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে-

(১) আলাপ-আলোচনা বা নেগোসিয়েশন : উক্ত পদ্ধতিতে পক্ষগণ কারো সাহায্য ছাড়াই নিজেরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় উপনীত হয়।

(২) মধ্যস্থতা বা মিডিয়েশন : এ পদ্ধতিতে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত হন এবং কোনো ধরনের জোরারোপ বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া ব্যতীত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষকে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেন।

(৩) সালিশ বা আরবিট্রেশন : এ প্রক্রিয়াটির ধরন মধ্যস্থতার মতো হলেও কিছুটা নিয়মনিষ্ঠাভাবে সম্পাদিত হয়। যেখানে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আদালত বা কোনো আরবিট্রেশন বডি থাকে, সেখানে পক্ষগণকে সমঝোতায় এনে সমাধান প্রণয়ন করা হয়।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সুবিধা

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মূল উদ্দেশ্য মামলা-মোকদ্দমার জটিলতা পরিহার করা, মামলার অযাচিত ব্যয়ভার হ্রাস করা, পক্ষগণের মধ্যে সম্প্রীতি সৃষ্টি করা। বছরের পর বছর মামলা আটকে থাকার কারণে অনেকসময় মীমাংসা করা অসম্ভব হয়ে যায় । বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধানের নিয়মানুসারে ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা নিষ্পত্তি করতে হবে। তার মধ্যে না হলে ৩০ দিন আদালত কর্তৃক বর্ধিত করা যাবে অর্থাৎ ৯০ দিনের মধ্যে একটি মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে। মধ্যস্থতা কার্যক্রমের গোপনীয়তা বিষয়েও সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। এটি প্রকাশ করা যাবে না এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। এ ধরনের আপস নিষ্পত্তি অনুযায়ী আদালতের দেয়া কোনো ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা বা পর্যালোচনার আবেদন করা যাবে না। উক্ত প্রক্রিয়ায় মামলার সমাধান হলে আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কোর্ট ফি’র টাকা ফেরতের আদেশ দিবেন।

আগামী পর্বে থাকছেঃ

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন আইনে  প্রণীত বিধানগুলোর সবিস্তারে বর্ণনা।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement