১৮ জুলাই, ২০২৪, বৃহস্পতিবার

মগবাজারে বিস্ফোরণ: কারণ ও হতাহতের সর্বশেষ সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

Advertisement

ঢাকার মগবাজারে একটি ভবনে বিস্ফোরণে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে। ওই ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে জানা গেছে এবং গুরুতর আহত ৬৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সোমবার সকালে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মোঃ রায়হান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর বিভিন্ন হাসপাতাল মিলিয়ে ৬৬জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ দুর্ঘটনায় আহতদের বেশিরভাগই আশেপাশের ভবন, কয়েকটি বাসের যাত্রী এবং পথচারী।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ভবনের কোথাও গ্যাস জমে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মগবাজার ওয়্যারলেস গেট এলাকায় ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

নাশকতা বলে মনে করছে না পুলিশ।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ”এই বছর এই ধরনের অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। একটা শনির আখড়ায় হয়েছে, একটা নারায়ণগঞ্জে হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেডের পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও আমরা একটা তদন্ত কমিটি করব কারণ অনুসন্ধানের জন্য। আমরা চাই, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।”

একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ”এই পর্যায়ে দেখে মনে হচ্ছে একটা ভয়াবহ শকওয়েভের তৈরি হয়েছে, যেটা একমুখী হয়েছে। সাধারণত বিস্ফোরক হলে সেটার বহুমুখী, তিন চারদিকে যাওয়ার কথা। গ্লাসের ভাঙ্গা টুকরো ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যায়নি। ভেতরেও মিথেন গ্যাসের গন্ধ আছে। আমরা এই পর্যন্ত যা দেখেছি, তাতে আমি মনে করি, ওই চিন্তা করে (নাশকতার) শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে তদন্ত ছাড়া এই পর্যায়ে কারণ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।”

বিস্ফোরণের পরে সেখানকার পরিস্থিতি

যে ভবনে বিস্ফোরণ হয়েছে, মৌচাক-মগবাজার সড়কের ৭৯ আউটার সার্কুলার রোডের সেই তিনতলা পুরনো ভবনটি আংশিক ধসে পড়েছে। সেই সঙ্গে আশেপাশের অন্তত এক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সামনের পুরো এলাকাটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে।

ভবনের নিচতলায় একটি খাবারের দোকান ও একটি মাংস বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দোকান ছিল, যার অস্তিত্ব বোঝার কোন উপায় নেই। উপরে ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রির একটি শো-রুম ছিল, সেটির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য এলোমেলোভাবে পড়ে রয়েছে। ভবনটি অনেকগুলো পিলার ভেঙ্গে উপরের তলাগুলো ধসে পড়েছে।

এই ভবনের ঠিক ওপর পাশে লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ংয়ের একটি শো-রুম রয়েছে। সেটির এবং আশেপাশের সবগুলো ভবনের সব কাঁচ ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে রয়েছে।

সেটির ঠিক সামনেই একটি বাস রয়েছে, যার সবগুলো কাঁচ ভেঙ্গে গেছে, গাড়িটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশেপাশের সব ভবনের, রাস্তার উল্টো পাশের ভবনের কাঁচ ভেঙ্গে গেছে। বাসগুলোর ভেতরে ও বাইরে রয়েছে রক্তের দাগ।

এমনকি রাস্তার উল্টো পাশে কয়েকশো গজ দূরের একটি বাসের সবগুলো কাঁচ ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement