২২ জুন, ২০২৪, শনিবার

মাশরাফির চোখে বিসিবির যত ভূল

Advertisement

বিসিবির ভুল কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিশেষ করে কোচ নিয়োগ ও সিনিয়র ক্রিকেটারদের বর্তমান অবস্থার ভিত্তিতেই তিনি নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন। বলেছেন ,কোচ নির্বাচন প্রক্রিয়া, দেশি কোচকে প্রাধান্য না দেওয়া, প্রিয়ো ক্রিকেটারকে নিয়ে কোচেদের মাতামাতি। নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া স্ট্যাটাসে ম্যাসের লেখা পুরো স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলে দর্শকদের জন্য।

কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে যে বরাবরই খামখেয়ালীপানা করে বিসিবি, সেটা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি লেখেন, কোচ নিয়োগের আগে দেখা হয় তার প্রোফাইল কতটা সমৃদ্ধ। অভিজ্ঞতা কেমন। দলকে কোন পথে কোথায় নিতে চান তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের সম্পর্কে জানার গভীরতা, এদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি জানা আছে কিনা, এসব কতটা দেখা হয়?

এ ব্যাপারে তিনি আরও লেখেন, একটা কোচ যখন নিয়োগ দেওয়া হয় তার প্রসেস আসলে কি থাকে সেটা জানার খুব ইচ্ছে আমার। এখন পর্যন্ত ৯-১০ জন কোচের সাথে কাজ করেছি। আমি যতটুকু দেখেছি প্রত্যেকটা কোচ তার নিজের মতো করে কাজ শুরু করে, যেটা করাটাও স্বাভাবিক। কারণ এক এক জনের কাজের ধরণ এক এক রকম।’

কোচরা যে তাদের প্রিয় খেলোয়াড়দের নিয়ে বেশি মাতামাতি করে এবং বেশি সুযোগ দেন সেইসব ব্যাপারে মাশরাফির ব্যাখ্যা, সব সময় দেখেছি প্রত্যেকটি কোচ তার নিজস্ব একজন বা দুইজন প্রিয় খেলোয়াড় বানিয়ে নেয়, যা পরে সিলেক্টর, ক্যাপ্টেন বা অন্যকেউ তাকে আর কিছুই বুঝাতে পারে না, বরং সম্পর্ক গুলো জটিল হতে থাকে আর ঐ পছন্দের জন্য সে আবার দুইজনকে এমন অপছন্দ করা শুরু করে যে তাদের আর দেখতেই পারেনা। এক পর্যায়ে এমন জিদ শুরু করে যে প্রয়োজনে চাকরি ছেড়ে দিব, এমন কথা প্রকাশ্যেও শুনেছি কয়েকবার কোচের মুখে।’

কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোথায় ভুল করে বসে বোর্ড, সেটিও তুলে ধরেন মাশরাফি। বলেন, ‘কোচ নিয়োগের সময় যে নতুন কোচের ইন্টারভিউ নেওয়া হয় সেখানে আসলে তাকে কি প্রশ্ন করা হয়? বা আদৌ কি করা হয় কোন প্রশ্ন? নাকি শুধু জানতে চাওয়া হয় তোমার কি করার ইচ্ছা? হয়তো তখন সে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরে ওখান থেকে নতুনত্ব কিছু পেলে চিন্তা করে দারুণ কোচ কি সুন্দর প্ল্যান, এর মতো কোচই হয়না।’

সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ‘আমার তো মনে হয় ভুল ওখানেই হয়ে যায় কারণ আমরা মানুষকে বোঝাতে সব সময় হাইপ্রোফাইল কোচ খুঁজি যা পরে আর কোন কাজে আসে না। আমাদের প্রয়োজন আমাদের ক্রিকেট যে ফলো করে বা আমাদের ম্যাক্সিম্যাম খেলোয়াড়দেরকে নিয়ে স্টাডি করে এসে ইন্টারভিউ দিচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে ন্যুনতম ধারণা নিয়ে আসা। তা না হলে -ও তো বুঝবেই না একজন সাকিব, তামিম, মুশফিক, রিয়াদ তৈরি করতে কতো দিন লেগেছে। বা অতীতে তাদের অবদান কি। একজন মোস্তাফিজ কিভাবে উঠে এসেছে। বার বার বলেছি আবার ও বলছি দলের আগে কখনোই কোন খেলোয়াড় হতে পারেনা, ভালো না করলে বাদ পড়তেই হবে।’

দেশি কোচরা কেনো সুযোগ পাচ্ছেন না, কেনো বিদেশি কোচদের নিয়ে এতমাতামাতি করে বাংলাদেশ সে ব্যাপারে ম্যাস লিখেছেন, কোচকে বলা হয় (ফাদার অফ দ্যা সাইড) সে সবাইকে দেখে রাখবে। প্রয়োজনে কঠোর হবে আবার দলের স্বার্থে যাকে প্রয়োজন তাকে ব্যবহার করবে। তার সব কিছুই হতে হবে পজিটিভ কারও প্রতি কঠোর কারও প্রতি নমনীয় এটা এক রকমের বৈষম্যতে রূপ নেয় আমাদের দেশে। যা গোছানো দলকে অগোছালো করে ফেলে। এক পর্যায়ে তারা আবার নিজেদের দেশে, না হলে আইপিএল বা আরও ভালো কোন অফার পেয়ে চলে যাবে কারণ এতো দিনে সে আমাদের দেশের ক্রিকেটকে নিয়ে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে নিজের প্রোফাইলও ভারি করেছে মাঝখান দিয়ে।’

বলছিলেন মাশরাফি, ‘বেতন তো নিয়েছে মাসে ১২-১৫ লাখ টাকা। আর আমাদের কোচগুলো না খেয়ে মরে। গালি ও দেখি আমাদের কোচরাই হজম করে। আর পরে ওনারা চলে গেলে আমরা পড়ি বিপদে আবার নতুন কোচ নতুন পরীক্ষা নতুন দাবি মেটানো। এভাবেই চলছে বাংলাদেশে কোচদের যাওয়া আসা।’

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement