২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, বৃহস্পতিবার

যে কোনো সময় আসতে পারে কঠোর সিদ্ধান্ত : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

Advertisement

সারা দেশে চলছে সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ। বেশ কয়েকটি জেলায় বিশেষ লকডাউনও চলছে। তবে মানুষের মধ্যে সচেতনতা না থাকায় এসব কর্মসূচি করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখছে না বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এ ব্যাপারে সরকারকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে। গত কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার মধ্যে সবশেষ বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দেশে ৬ হাজার ৫৮ জন শনাক্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৮১ জনের। এ অবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল রাতে বলেন, ‘সরকারের প্রস্তুতি আছে, যেকোনো সময় কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার করোনা পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। বুধবার রাতে কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি একই দিন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ও জনগণের জীবনের ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য সারাদেশে কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ণ ‘শাটডাউন’ দেওয়ার সুপারিশ করছি। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, শাটডাউন মানে জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছুই বন্ধ রাখার কথা বোঝানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাঁদের সুপারিশ অ্যাকটিভ কনসিডারেশনে (সক্রিয় বিবেচনা) নেবো। এটি কমানোর জন্য যেটি করা প্রয়োজন হবে আমরা সেটি করব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে সংক্রমণ কমানোর চেষ্টা করছি। স্থানীয়ভাবে বিধি-নিষেধ দিয়ে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেটা প্রয়োজন হবে সেটাই আমরা করব।’

কমিটির সুপারিশের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, যেহেতু করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, সে জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয়ভাবেও কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় সেটি চলছে। সেখানে তা কার্যকরও হচ্ছে। এখন ঢাকার চারপাশের সাত জেলাতেও কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকার কিছুদিন ধরেই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এখন জাতীয় পরামর্শক কমিটি যে সুপারিশ করেছে, সেটি যৌক্তিক। সরকারেরও ইতিমধ্যে এই ধরনের প্রস্তুতি আছে। সরকারও কঠোর বিধিনিষেধের চিন্তাভাবনা করছে। যেকোনো সময় সরকার তা ঘোষণা দেবে।

এতে বলা হয়, রোগ প্রতিরোধের জন্য খণ্ড খণ্ডভাবে গৃহীত কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অভিজ্ঞতা কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এর বিস্তৃতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞের সাথেও আলোচনা করা হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement