৩ মার্চ, ২০২৪, রবিবার

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Advertisement

‘রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে আমরা সবসময়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সমস্যার মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে, তা সমাধানের কথা বলেছি। বিশেষ করে তাদের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদে এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজেদের দেশে টেকসই প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছি।’

মঙ্গলবার (১৫ জুন) জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত ‘মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি: সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের অবস্থা’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল আলোচনায় দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোন সমাধান না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চাইলেন তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে, কানাডা, সৌদি আরব ও তুরস্কের স্থায়ী মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ যৌথভাবে ভার্চুয়াল এই ইভেন্টটির আয়োজন করে। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। উদ্বোধনী বক্তা ছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা আলোচনা অনুষ্ঠানটির সূচনা করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন। আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘে নিযুক্ত কানাডার স্থায়ী প্রতিনিধি বব রে, তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি ফেরিদুন হাদি সিনির লইয়োগো, জাতিসংঘের গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যালিস ওয়াইরিমু নেডিরিটু, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যানড্রিউজ, জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদি আরবের উপস্থায়ী প্রতিনিধি এবং রোহিঙ্গা অ্যাকটিভিস্ট ও উইমেন পিস নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক ওয়াই ওয়াই নু। প্যানেল আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল সেন্টার ফর রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্টের নির্বাহী পরিচালক সায়মন অ্যাডাম। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্ত ও মানবীয় উদারতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই নীতি-আদর্শ ও উদারতাই আমাদেরকে সহিংসতার শিকার বাস্তচ্যুত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করেছে। আমাদের সম্পদ ও স্থানের তীব্র সীমাবদ্ধতার পরও আমরা আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।’

ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নবসৃষ্ট আবাসন সুবিধার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গদের জন্য সৃষ্ট নতুন এই আবাসন ব্যবস্থা জাতিসংঘ যথাযথভাবে পরিদর্শন ও মূল্যায়ন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও মানবাধিকার কাউন্সিলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি সর্বদা সচল রাখতে যে সকল প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে তা স্মরণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি এ বিষয়ে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি আশা করেন নিরাপত্তা পরিষদ জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী তাদের দায়বদ্ধতা পালন করবে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেবে।

রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে অন্য আলোচকরাও তাদের সমর্থনের কথা জানান। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের মানবীয় উদারতার প্রশংসা করেন।

এদিকে বিকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকিরের সাথে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ আলোচনায় রোহিঙ্গা সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কভিড-১৯ এর টিকা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উঠে আসে। মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ সেশন আহ্বান করার জন্য পিজিএ-কে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কভিড-১৯ এর ভ্যাকসিনকে ‘গ্লোবাল পাবলিক গুড’ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক্ষেত্রে সকলের অধিকার নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে আমন্ত্রণ জানান।

এছাড়া জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ, ভূবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রসমূহের উচ্চ প্রতিনিধি ও আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ফেকিতা মোইলোয়া কাটোয়া উতয়কামানু এর সাথে সাক্ষাত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে তাঁরা স্বল্পোন্নত দেশসমূহের টেকসই ও অপ্রত্যাবর্তনযোগ্য উত্তরণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক কমিটির কো-চেয়ার হিসেবে একটি সহাসী ও উচাকাঙ্খী ফলাফল অর্জনে বাংলাদেশ সব অংশীদারদের সাথে কাজ করে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement