৩ মার্চ, ২০২৪, রবিবার

শীতে পায়ের যত্ন যেভাবে নিতে হয়

Advertisement

শীতের আবহাওয়া বদলের প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরে। অন্য সব অঙ্গের তুলনায় পা বেশি সময় খোলা থাকে। বাতাস থাকে শুষ্ক। এ জন্য পা দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। পায়ের ত্বকে ফাটল ধরে, রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যায়। তাই শীতে একটু বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। শীত থেকে পা বাঁচাতে সারাক্ষণ জুতা-মোজা পরে থাকা যেমন ঠিক নয়, আবার দীর্ঘ সময় পা খোলা রাখলেও সমস্যা। এ জন্য নিয়ম মেনে পায়ের যত্ন নিতে পারলে পা ফাটাসহ অন্য সব সমস্যা থেকেও দূরে থাকা যায়।

পায়ের যত্নে পেডিকিউর খুব কার্যকর এক সমাধান। পেডিকিউরের ফলে পুরো পায়েরই সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। এই শীতে ভালো কোনো সেলুনে গিয়ে একবার পেডিকিউর করে নিতে পারেন। পেডিকিউর করালে পায়ের বাকি যত্ন নেওয়া সহজ হয়। শীতে পায়ের মৃত কোষ বা মরা চামড়া ওঠা কমন এক সমস্যা। পেডিকিউর করলে এ সমস্যা দূর হয়ে যায়। পায়ের রুক্ষভাব কমে আসে। শীতে মাসে দুবার পায়ের সুরক্ষায় পেডিকিউর করা ভালো। এ ছাড়া বাড়িতে সপ্তাহে একবার এক্সফোলিয়েট করে পায়ের ত্বকের মৃত কোষ তুলে নিতে পারেন।

শীতে আরামে থাকুক পা

পা পরিষ্কার করতে অনেকে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করেন। এটা ঠিক নয়। এতে ত্বক আরো শুষ্ক হয়ে পড়ে। তবে কুসুম গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। পায়ের গোড়ালি পরিষ্কার রাখতে স্টোন বা ফুট স্ক্র্যাবার দিয়ে পায়ের গোড়ালি ঘষে নিন। এরপর ভালো করে ধুয়ে ফুট ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। এতেও পা সুন্দর থাকবে।

শীতে অনেকের মধ্যে হাত-পা ধোয়া ও গোসলে অনীহা দেখা যায়। এটা করা যাবে না। দিনে কয়েকবার পা ধৌত করতে হবে। পানির সংস্পর্শে পায়ের ত্বক আর্দ্রতা ফিরে পাবে। এ সময় ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজারযুক্ত সাবান দিয়ে পা ধোয়া বেশি উপকারী।

পা ধোয়ার পর বা গোসলের পর পায়ে ভ্যাসেলিন ব্যবহার করতে হবে। যাঁদের পা ফাটার প্রবণতা বেশি তাঁরা গ্লিসারিন ও ভ্যাসেলিন মিশিয়ে পায়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। পায়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেও পায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এ সময় এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে, যাতে তেলের পরিমাণ বেশি থাকে। এতে পা দীর্ঘ সময় আর্দ্র থাকবে।

পায়ে শীত লাগতে দেওয়া যাবে না। শুষ্কতার কারণেই মূলত শীতে পায়ের বিপদ বেশি দেখা যায়। বেশি শীতে পায়ে মোজা পরে থাকতে হবে। এতে পায়ের ত্বক মসৃণ, নরম থাকবে। মোজা পরার আগে পায়ে জলপাই তেল ম্যাসেজ করে নিতে পারেন। এতে শীতে আরো সুরক্ষিত থাকবে পায়ের ত্বক। বাইরে গেলে পা ঢাকা জুতা পরা বেশি উপকারী। খোলা স্যান্ডেল বা উঁচু জুতা পরিহার করতে হবে। শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, এ সময় ভেতর থেকেও ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পুষ্টির অভাবে শীতে ত্বকে সংক্রমণের শঙ্কা বেড়ে যায়। এ জন্য বেশি বেশি শীতের সবজি খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। শীত মৌসুমে অনেকে কম পানি পান করে থাকেন। এতে ত্বক আরো নাজুক হয়ে পড়ে। শরীরে পানিশূন্যতার কারণেও ত্বকে খসখসে ভাব দেখা দেয়, ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে। এ জন্য ত্বকের আর্দ্রতা ও সুস্থতার জন্য সারা দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পানি পান ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্রতা নিশ্চিত করবে। সব শেষে প্রতিদিন একবার নিজের পা পরীক্ষা করে দেখুন। কোনো অসুবিধা বা অসংগতি মনে হলে প্রয়োজনে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement