২২ জুন, ২০২৪, শনিবার

সংবিধানে মৌলিক অধিকার

Advertisement

রাষ্ট্রের প্রাণ নাগরিকরা । হাজার, লক্ষ বা কোটি, পরিমাণ যাই হোক না কেন নাগরিকরাই হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রধানতম নিয়ামকগুলোর একটি। তাই রাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিকদের কিছু অধিকার থাকে। আর এই অধিকার নিশ্চিত করে সংবিধান।

অনেকেই বলে থাকেন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা মৌলিক অধিকার। মৌলিক অধিকার মূলত সেগুলোই যেগুলো সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী উপরোল্লিখিত পাঁচটি মৌলিক উপকরণ বলে বিবেচিত। মৌলিক অধিকার নয়।

বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিয়ে বলা আছে। এ অধ্যায়ের ২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্য কোন আইন করা যাবে না। যদি করা হয় তবে তা খারিজ হয়ে যাবে।

সমতা ও আশ্রয়

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং সবাই আইনের সবাই আশ্রয় লাভের অধিকারী।

বৈষম্যহীনতা

অনুচ্ছেদ ২৮(১) অনুযায়ী কেবলমাত্র ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী,নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারনে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। ২৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সমাজ, সব জায়গায় নারী ও পুরুষের সমানাধিকার থাকবে। অনুচ্ছেদ ২৯(১) অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ ও পদলাভের ক্ষেত্রে সবার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ৩১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী ব্যবহার লাভ প্রত্যেক নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার।   

জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার

প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার যে অধিকার, তা অক্ষুণ্ণ থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছে অনুচ্ছেদ ৩২ ।

গ্রেপ্তার ও আটকের রক্ষাকবচ

কাউকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে তাকে কারণ না জানিয়ে আটক করা যাবে না। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোপগ দানসহ গ্রেফতারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের চবিবশ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে।  এবং আদালতের আদেশ ব্যতীত তাকে উক্ত সময়ের অধিককাল আটক রাখা যাবে না। এমনটাই বলা হয়েছে অনুচ্ছেদ ৩৩-এ।

নিষিদ্ধ শ্রম

সকল প্রকার জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ। কোনভাবে কাউকে জোর করে কোন শ্রমে নিয়োজিত করলে তা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।

বিচার ও দণ্ড

একজন ব্যক্তিকে একাধীকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দণ্ড প্রদান করা যাবে না। প্রকাশ্য নিরপক্ষ আদালতে বিচার করতে হবে। অপরাধীকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য না করাসহ নিষ্ঠুর বা অমানবিক দণ্ড প্রদান করা যাবে না।

স্বাধীনতা

অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক তার ইচ্ছেস্বাধীন চলেফেরা করতে পারবেন। যাকে বলে চলাফেরার স্বাধীনতা। ৩৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে একজন নাগরিক শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র সমাবেশে যোগাদান করতে পারবেন। অনুচ্ছেদ ৩৮ মোতাবেক বোঝা যায় জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে। চিন্তা ও বিবেকের চর্চার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে ৩৯তম অনুচ্ছেদ। আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি বেছে নেয়ার অধিকার দেয়া হয়েছে ৪০ তম অনুচ্ছেদে। শুধু ধর্মীয় চর্চাই নয়, রক্ষণাবেক্ষন ও ব্যবস্থাপনার স্বাধীনতাও দেয়া হয়েছে ৪১তম অনুচ্ছেদে।

সম্পদ, গৃহ আর যোগাযোগ

প্রত্যেক নাগরিকই ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জন, রক্ষণাবেক্ষণ, হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনার আইনি অধিকার লাভ করবেন । আইন ব্যতীত কোন সম্পত্তি গ্রহণ, দখল বা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব করা যাবে না মর্মে ঘোষণা দেয় ৪২ অনুচ্ছেদ। অন্যদিকে ৪৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে আইন সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের গৃহের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় থাকবে। একইসাথে চিঠিপত্র যোগাযোগ বজায় ও গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার থাকবে।

মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ

সবকিছু মিলিয়েও যদি কারো কোনভাবে উল্লেখিত মৌলিক অধিকার সমূহের মধ্যে কোনটা লঙ্ঘিত হয়। সেক্ষেত্রে ১০২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পন্থায় মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে হাইকোর্ট বিভাগের দ্বারস্থ হতে পারবেন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি।

সংবিধান স্বাভাবিক কার্যক্রম হিসেবে নিশ্চিত করতে চায় যাতে রাষ্ট্র কখনো নাগরিকের অধিকার খর্ব করতে না পারে। আর কোনভাবে, এমনকি আইন প্রণয়নের মাধ্যমেও যদি কখনো রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার হরণের চেষ্টা করে। তখন নাগরিক সম্প্রদায় আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের অধিকার বজায় রাখতে পারে।  

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement