৩ মার্চ, ২০২৪, রবিবার

সরকারি চাররিজীবিরাই এখন ব্যবসায়ী

Advertisement

বেতন–ভাতা বাড়ানোর পরও সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের। অনেক সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ব্যাপক হারে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়াছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ তথ্যটি সুনিশ্চিত করেছেন। কারণ, সরকারের অনুমোদন ছাড়াই তাঁরা ব্যবসায় জড়াচ্ছেন, যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার সুস্পষ্ট  লঙ্ঘন করে। যেসব কর্মকর্তা–কর্মচারী ব্যবসায় জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯–এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিধিমালার ১৭ নম্বর ধারায় বলা আছে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের অনুমোদন ছাড়া, সরকারি কাজ ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসায় জড়িত হতে পারবেন না। অন্য কোনো চাকরি বা কাজ গ্রহণ করতে পারবেন না। পরিবারের সদস্য অর্থাৎ স্ত্রী–সন্তানও ব্যবসা করতে পারবেন না।

আমরা সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। তবে একজন নন–গেজেটেড সরকারি কর্মচারী অনুমোদন ছাড়া তাঁর পরিবারের সদস্যদের শ্রমকাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে সম্পত্তির ঘোষণাপত্রের সঙ্গে ব্যবসার বিস্তারিত বিবরণ দাখিল করতে হবে।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, সরকারের অনুমোদন ছাড়া যে ব্যবসা করা যাবে না, সেটি সব কর্মকর্তা-কর্মচারী জানেন। 

সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবসায় জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে গত বছর দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সময়।

সরকারি পদে থেকে তাঁরা অন্য প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হয়ে যাচ্ছেন। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হয়ে সরকারের অনুমোদন ছাড়া তাঁরা মালিক বনে যাচ্ছেন। অনেকে গাড়ি কিনে সে গাড়ি ভাড়ায় দিচ্ছেন। কেউ কেউ জমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচায় জড়িয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হচ্ছেন। কেউ কেউ ফার্ম করে পেছনে থেকে সরকারি দপ্তরের কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসনসচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘আমরা সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement