২২ জুন, ২০২৪, শনিবার

হাওরে নববধূকে গণধর্ষণের কথা স্বীকার করল আরও ৩ আসামি

Advertisement

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার টিক্কা হাওরে স্বামীকে বেঁধে রেখে নববধূকে গণধর্ষণের মামলায় আরও তিন ধর্ষক আসামি নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সোমবার বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যান্ত আসামিরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দি দেন।

ধর্ষকরা হলো- উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের পাতা মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২২), বকুল মিয়ার ছেলে সুজাত মিয়া (২৩), মিজান মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (২৫)। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেফতার ছয়জনের মধ্যে চারজন স্বীকারোক্তি দিয়েছে। 

এর আগে গত রোববার ওই তিন আসামিকে রাঙ্গামাটির নলিয়ারছড় থেকে গ্রেফতার করে লাখাই থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে তাদেরকে আদালতে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের এক যুবক তার নববধূকে নিয়ে টিক্কা হাওরে ঘুরতে যান। হাওরের মাঝখানে যাওয়া মাত্রই একই গ্রামের মুছা মিয়ার নেতৃত্বে আট যুবক তাদের নৌকায় উঠে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়।

ঘটনার পর স্বামী-স্ত্রী ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন। গত বুধবার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বামী। ঘটনার পর সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নববধূর স্বামীর নিকট ৯ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসামিরা। অবশেষে তিনি নিরুপায় হয়ে বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলা করেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব।

গ্রেফতাররা হলো- উপজেলার মুড়াকরি গ্রামের ইকবাল হোসেন ছোট্টু মিয়ার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান হোসেন রনি (২২), একই গ্রামের রুকু মিয়ার ছেলে শুভ মিয়া (১৯) ও ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে মিঠু মিয়া (২৩), উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের পাতা মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২২), বকুল মিয়ার ছেলে সুজাত মিয়া (২৩) ও মিজান মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (২৫)।

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement