২ মার্চ, ২০২৪, শনিবার

কোভিড: খুলনা বিভাগে একদিনে সর্বাধিক মৃত্যু ও শনাক্ত

Advertisement
খুলনা বিভাগে করোনাভাইরাসে এক দিনে মৃত্যু এবং শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় নতুন রেকর্ড হয়েছে।

বুধবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা জানান, এ বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯০০ জন। শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ৩৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।

এর আগে গত ৫ সোমবার সর্বোচ্চ ৫১ জনের মৃত্যুর এবং গত মঙ্গলবার ১ হাজার ৮৬৫ জনের করোনাভাইরাস শনাক্তের রেকর্ড ছিল।

“বিভাগে এখন পর্যন্ত এটাই একদিনে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা।”

তবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের দেশের কেন্দ্রীয় ‘সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র’ থেকে প্রকাশিত বুলেটিনে এ সময়ে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি দেখানো হয়েছে। সেখানে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগে কোডিভে ৬৬ জনের মৃত্যু এবং এক হাজার নয়শ’ জন রোগী শনাক্তের কথা বলা হয়েছে।

সীমান্তবর্তী হওয়ায় এ বিভাগে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে রাশেদা সুলতানা জানান, এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১ হাজার ১৯৯ জন কোভিড রোগী। মানুষজন সচেতন না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা রয়েছে।

রাশেদা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরটি-পিসিআরে ২ হাজার ৭২১টি, জিন এক্সপার্ট যন্ত্রে ১৪১টি, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন দিয়ে ২ হাজার ৭৩৯টি মোট ৫ হাজার ৭৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এটাই একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা।

তার হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ৬০ জনের মধ্যে খুলনার ২১ জন, কুষ্টিয়ার ১১ জন, ঝিনাইদহে ৭, যশোরের ৬ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৫, নড়াইলে ৪, বাগেরহাটের ৩, মেহেরপুরের ২ এবং মাগুরার ১ জন রয়েছে। এনিয়ে বিভাগে করোনা সংক্রমিত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬৫। মৃত্যুর হার ২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

কয়েকদিন ধরে খুলনার চারটি হাসপাতালে গড়ে ১৫ জনের বেশি করে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চারটি হাসপাতালে মারা যান ২২ জন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে আসায় এবং একাধিক রোগ থাকায় কোভিডে মৃত্যু বাড়ছে।

খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুখপাত্র সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে করোনায় ৯ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ১৮৯ জন। এরমধ্যে রেড জোনে ১১৬ জন, ইয়েলো জোনে ৩৪ জন, আইসিইউতে ১৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৪১ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ জন বলেন তিনি।

গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১৩১ জন। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২৭ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৫ জন বলে জানান মিজানুর।

খুলনা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র কাজী আবু রাশেদ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৫ জন।

খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ভর্তি ৪৩ জন রোগী। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৪ জন এবং বাড়ি ফিরেছেন ৫ জন।

খুলনার চিকিৎসারা বলছেন, জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিভাগে কোভিড রোগী বাড়তে শুরু করে। সে সময় মেঝেতে রেখে রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হলেও কোভিড হাসপাতালগুলোয় এখন শয্যা, অক্সিজেন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, তবে এসব পদক্ষেপ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন তারা।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, খুলনা বিভাগে উপজেলা পর্যায়ে ১ হাজার ৩২৭টি চিকিৎসকের পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৩১ জন। ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. আসম আলমগীর বলেন, খুলনা বিভাগে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর কারণে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট বেশি ছড়িয়েছে।

“মানুষের কোভিড টেস্টের অনীহার কারণে পজিটিভ রোগীরাও মাস্ক না পরে ঘুরে বেড়িয়ে পরিবার ও অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।”

Advertisement

আরও পড়ুন

Advertisementspot_img
Advertisement

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Advertisement